Wednesday, August 8, 2012

খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ দুষণ রোধে তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ

খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ দুষণ রোধে তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ
 
 এডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম


অধিক জনসংখ্যার সীমিত ভুখন্ডের এ দেশ। খাদ্যের জমিতে তামাক চাষ খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ, জনস্বাস্থ্যকে হুমকির মুখে ফেলছে। তামাক চাষ অগ্রাসীভাবে বিভিন্ন খাদ্য ভান্ডারের জমি দখল করে নিচ্ছে। উত্তরাঞ্চলের খাদ্যভান্ডার বলে পরিচিত চলনবিল এখন দখল করে নিচ্ছে তামাক চাষ, পাবর্ত্য এলাকায় এ বিষের ছোয়া রন্ধে রন্ধে। 

তামাক চাষ  শুধুমাত্র খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়, এই বিষবৃক্ষ চাষ, উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বিপনন সকল ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত করছে জনসাধারণকে।  তামাক পাতা উঠানোর মৌসুমে বাড়ীর নারী, পুরুষ শিশু সকলে একসাথে মাঠে কাজ করতে হয়। এসময় শিশুরা স্কুল কামাই করে তাদের অবিভাবকদের সাথে মাঠে কাজ করে। ফলে তামাক চাষীদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এভাবে তাদের শিক্ষাজীবনে ব্যাঘাত সৃষ্টি হওয়ায় তারা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এ রাসায়নিক ও কীটনাশক মাটির উর্ব্বরতা হ্রাস, পানি ধারণ ক্ষমতা নষ্ট এবং ক্ষয় বৃদ্ধি করছে। এছাড়া রাসায়নিকের প্রভাবে  জনস্বাস্থ্য, বনভূমি, পানি, জলজ প্রাণী, পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদী ও জলাশয়ের ঢালু উর্বর জমিতে ক্ষতিকর তামাক চাষ করায় এ জমিতে ব্যবহৃত কীটনাশক ও তামাকের রাসায়নিক গিয়ে নদী-জলাশয়ের পানিতে মেশায় সে পানি দূষিত হয়ে পড়ছে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকগুলো পানি সাথে মিশে গিয়ে সুপেয় পানির উৎস নষ্ট করছে।

তামাক পাতা শুকানোর সময় উক্ত এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। কাঠ, তুষ বা খড় পোড়ানোর ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টসহ নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। পার্বত্য এলাকায় তামাক পাতা শুকানোর জন্য ব্যাপকভাবে বনাঞ্চলের গাছ কাটা হচ্ছে, বনভূমিকে ধ্বংশ করছে। তামাক চাষ করার ফলে কৃষক এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হবার আশংকা থাকে। গবেষনায় দেখা গেছে, তামাক চাষী ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বার্জার্স এবং গ্রীণ টোব্যাকো সিকনেস (GTS)  ব্যাপকভাবে লক্ষনীয়। এক গবেষনায় দেখা গেছে যে, টানা কয়েকদিন তামাক পোড়ানোর পর অনেক কৃষক এত বেশী অসুস্থ হয়ে পড়েন যে তারা শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। তামাক পোড়ানো শেষে কৃষককের বমি বমি ভাব, শ্বাসকষ্ট, শারীরিক দূর্বলতা দেখা যায় । 

বিগত অর্থবছরে কৃষি জমিতে তামাক চাষ নিরুৎসাহিত করতে তামাক (আন-ম্যানুফ্যাকচার্ড) রপ্তানির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ হারে রপ্তানি শুল্ক আরোপ করা হয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংক তামাক চাষের জন্য ঋণ প্রদান বন্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তথাপিও তামাক চাষ অব্যাহত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে যে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে।

ক্স    খাদ্য সংকট মোকাবেলায় তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে একটি নীতিমালা প্রণয়ন।
ক্স    তামাক চাষের প্রেক্ষিতে দখল হয়ে যাওয়া খাদ্য শষ্যের জমিতে, খাদ্য উৎপাদনে কৃষকদের সহযোগিতা প্রদান।
ক্স    তামাষ চাষ, উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রক্রিয়ায় পরিবেশ ক্ষতি নিরূপনে গবেষণা সম্পন্ন।
ক্স    তামাক উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রক্রিয়ায় শিশুদের অংশগ্রহণ বন্ধ করা।
ক্স    তামাক শুকানোর প্রক্রিয়ায় পরিবেশ দুষণ ও বৃক্ষ নির্ধণ বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ
ক্স    তামাক চাষের জন্য সহযোগিতা ও সুবিধা বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ
ক্স    কৃষকদের তামাক চাষ হতে বিরত রাখতে প্রচারণা কার্যক্রম বৃদ্ধি করা

 

Monday, June 25, 2012

কষ্টের শেষ নেই পুলিশের: নেই থাকার মতো বাসস্থান, মাসে ট্রাফিক অ্যালাউন্স ২৩ টাকা

কষ্টের শেষ নেই পুলিশের:
নেই থাকার মতো বাসস্থান
মাসে ট্রাফিক অ্যালাউন্স ২৩ টাকা
- সাখাওয়াত কাওসার
'আমাগো কেউ মানুষ বলে মনে করে না। কোনো সরকারই আমাগো কষ্ট বুঝতে চায় না। শুধু খাটায়া নেয়। সারা দিন খাটনির পর রাতে ব্যারাকে ফিরাও দেখি পানি নাই, বিদ্যুৎ নাই। খাবারও নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় বাধ্য হয়ে নোংরা পোশাকেই আবার ডিউটিতে বাইর হওয়া লাগে। কোথায় যাব কন? আমরা কি আসলেই মানুষ!' আক্ষেপের সুরে কথাগুলো বললেন রাজারবাগ পুলিশ লাইনস ব্যারাকের এক সহকারী উপ-পরিদর্শক।

নীলক্ষেত মোড়ে দায়িত্বরত একজন ট্রাফিক কনস্টেবল বলেন, আমাদের থাকার মতো কোনো বাসস্থানের ব্যবস্থা নাই। কাঠফাটা রোদে কমপক্ষে আট ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে হয়। মাসে আমাকে ট্রাফিক অ্যালাউন্স বাবদ দেওয়া হয় মাত্র ২৩ টাকা। এই গরমে একটি ডাব খেতেও ৫০ টাকা লাগে। আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে সত্যতা মেলে তাদের এই 'অন্য জীবনের'।

রমনা বিভাগের উপকমিশনার সৈয়দ নূরুল ইসলাম বলেন, 'আসলে ওদের কষ্টগুলো আমরা বুঝি। কিন্তু কী করব বলুন। আমরাও তো সমস্যার বাইরে নই। হরতালসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং বিভিন্ন ধরনের দৈব দুর্বিপাকে পুলিশকেই বেশি দায়িত্ব পালন করতে হয়। এর পরও আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করি নিচের স্তরের পুলিশ সদস্যদের সমস্যার সমাধান করতে।'

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নূরুল হুদা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, যে বাহিনীটি জনগণসহ সব ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সম্পৃক্ত, তাকে নিয়েই দিনের পর দিন অবহেলা করা হচ্ছে। পুলিশ বিভাগের জন্য খরচকে 'বিনিয়োগ' মনে করতে হবে। সরকারের উচিত বাজেটের উন্নয়ন খাতে এই খরচকে অন্তর্ভুক্ত করা। তিনি বলেন, সরকারের কাছ থেকে পর্যাপ্ত গাড়ি বরাদ্দ না পেয়ে পুলিশ বিভাগ বাধ্য হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে স্পন্সরশিপ হিসেবে গাড়ি নিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে স্পন্সররাও অনেক সময় তাদের সংকীর্ণ স্বার্থে পুলিশকে ব্যবহার করছে। এ বিষয়টি অত্যন্ত হতাশাজনক। সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও ব্রিটিশদের তৈরি দাসত্বমূলক আইনের বেড়াজালে বন্দী পুলিশ। নূ্যনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করে পুলিশের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রত্যাশা অনেকটা দিবাস্বপ্নের মতো। বাংলাদেশে পুলিশ ও জনগণের অনুপাত ১:১২০০, ভারতে ১:৭২৮, পাকিস্তানে ১:৪৭৭, নেপালে ১:৩৬৭। ভারতে পুলিশের বাজেট তাদের জিডিপির ১%, পাকিস্তানে ২.১৫%, নেপালে ৬.৮২%। আর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে জিডিপির মাত্র ০.৫৮%, যা সত্যি হতাশাজনক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় আট হাজার পুলিশ সদস্যের আবাসস্থল রাজারবাগ পুলিশ লাইনস। তবে সেখানে কোনো পুলিশ সদস্যের নির্দিষ্ট কোনো বিছানা নেই। পালা করে একাধিক পুলিশ সদস্য থাকছেন একেকটি বিছানায়। ছারপোকার কামড় তাদের নিত্যসঙ্গী। ব্যারাকে ঘুমানোর মতো নির্দিষ্ট কোনো আসন বরাদ্দ নেই এমন পুলিশ সদস্যের হার কমপক্ষে শতকরা ২৫ ভাগ। শুধু থাকার কষ্টই নয়, পুলিশ সদস্যদের খাবারের সমস্যা আরও প্রকট। রাজারবাগ লাইনসে খাবার খেলে কিংবা না খেলেও মেস ম্যানেজার পুলিশ সদস্যদের বরাদ্দকৃত রেশনসামগ্রী তুলে নিচ্ছেন। না খেয়েও খাওয়ার খরচ গুনতে হচ্ছে ছুটি ভোগকারী পুলিশ সদস্যদের। আগের রাতের রান্না করা সবজি পরিবেশন করা হচ্ছে পরের দিনের তিন বেলা। কেবল রাজারবাগ পুলিশ লাইনস নয়, একই চিত্র দেশের প্রায় প্রতিটি পুলিশ লাইনসের পুলিশ সদস্যদের।

আবাসন সংকট : চরম আবাসন সংকটে রয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। ডিএমপির সম্পত্তি শাখা সূত্র জানায়, মাত্র ৬১৮ জন পুলিশ আবাসন সুবিধা পাচ্ছেন। আবাসন সুবিধার দাবিদার ৭৫০ জন সাব-ইন্সপেক্টরের মধ্যে ৩৫৯ জন এবং ১৮ হাজার কনস্টেবলের মধ্যে মাত্র ১৮৬ জন এ সুবিধা পাচ্ছেন। ৭৪ জন সহকারী কমিশনারের (এসি) মধ্যে ৩৪ জন, ১৫ জন অতিরিক্ত কমিশনারের মধ্যে ১০ জন এবং উপকমিশনার (ডিসি) থেকে তদূধর্্ব পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা সবাই আবাসন সুবিধা পেয়েছেন।

ছুটি চাইলে বিড়ম্বনা : পাওনা ছুটি চাইতে গেলেও নিম্নস্তরের পুলিশ সদস্যদের পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। টাকা ছাড়া ছুটি মেলে না তাদের। রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের এক কনস্টেবল বলেন, 'ছুটি চাইলেই স্যারেরা খেপে যান। ফরম পূরণ করতে করতে হাঁপিয়ে উঠতে হয় আমাদের। প্রথমে এলসি (লার্নড কনস্টেবল), পরে সিএইচএম (কোম্পানি হাবিলদার মেজর), সবশেষে সিসির (কোম্পানি কমান্ডার) অনুমতি নিতে হয়। তবে দিনপ্রতি ছুটির জন্য এলসিকে ১০০ টাকা না দিলে ছুটি কল্পনাও করা যায় না।'

চিকিৎসা : বাহিনী হওয়ার পরও রাজারবাগ কেন্দ্রীয় হাসপাতালসহ দেশের অন্য সাতটি বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে স্থায়ী কোনো জনবল নেই। পুলিশ হাসপাতালগুলোকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীনস্থ চিকিৎসক, টেকনিশিয়ানের ওপর নির্ভর করেই চলছে এর কার্যক্রম। বিভাগীয় শহর ছাড়া জেলার অবস্থা আরও করুণ। অভিযোগ রয়েছে, সেবার বদলে জাতিসংঘ মিশনে যাওয়ার টার্গেট নিয়েই পুলিশ হাসপাতালে পোস্টিং নেন মেডিকেল কর্মকর্তারা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন পুলিশ হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকেরা বেশ কয়েকবার জাতিসংঘ মিশনে যাওয়ার সুযোগ করে নিয়েছেন।

পুলিশের কয়েকজন কনস্টেবল ও উপ-পরিদর্শকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোনো সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে গেলে অনেক সময়ই সেবার বদলে যাতনা নিয়ে ফিরতে হয়। বেশির ভাগ অসুখের ক্ষেত্রেই তাদের প্যারাসিটামল প্রেসক্রাইব করেন চিকিৎসকরা। তবে বিপরীত চিত্র প্রথম শ্রেণীর পুলিশ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে।

যানবাহন সমস্যা : পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তারা দামি বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার করলেও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা ভুগছেন যানবাহন সংকটে। অপরাধীরা যেখানে উন্নত মানের যানবাহন ব্যবহার করে দ্রুত অপরাধস্থল ত্যাগ করে, সেখানে চাহিদার তুলনায় পুলিশের যানবাহনের সংখ্যা নিতান্তই নগণ্য, অতি পুরনো ও জরাজীর্ণ। মহানগরীসহ অধিকাংশ এলাকায় যানবাহন অধিগ্রহণ (রিকুইজেশন) করে কাজ সম্পাদনের ফলে জনগণের মধ্যে পুলিশ সম্পর্কে বিরূপ ধারণা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ : পুলিশ ছাড়া সরকারের অন্য সব বাহিনীতে বেতন ছাড়াও আলাদা ভাতার ব্যবস্থা রয়েছে। সাড়ে তিন বছর আগে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া পুলিশ-ভাতার প্রতিশ্রুতিরও কোনো বাস্তবায়ন নেই। এ ছাড়া যেখানে নিম্নপদের পুলিশ সদস্যরা ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন অপারেশনে যান, সেখানে কেবল পরিদর্শক থেকে তদূধর্্ব পদের জন্য ঝুঁকিভাতার ব্যবস্থা রয়েছে। যদিও তা নামে মাত্র।

কর্মঘণ্টা : সরকারের সব বিভাগে নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা আছে। অন্য সব বাহিনীতে। এ সুবিধা থেকে বরাবরই বঞ্চিত শুধু পুলিশ। কর্মকর্তারা বলছেন, বিভিন্ন সময় পুলিশ সদস্যরা বিষয়টি তুলে ধরলেও রহস্যজনক কারণে এটি সুনির্দিষ্ট করার কার্যক্রম থেমে যাচ্ছে। কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করে ওভারটাইমের ব্যবস্থা করা হলে পুলিশ সদস্যরা কিছুটা হলেও স্বস্তি পেতেন।

মিশন নিয়ে হতাশা : জাতিসংঘ মিশনে যাওয়ার প্রক্রিয়াগত জটিলতা নিয়ে অসন্তোষ বিরাজ করছে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) কর্মরত এক সহকারী উপ-পরিদর্শক বলেন, 'তিন বছর আগে তিনি মিশনে যাওয়ার জন্য পরীক্ষায় পাস করেন। মন্ত্রী কিংবা ঊধর্্বতন প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের তদবির না থাকায় তিনি মিশনে যেতে পারেননি। আর মাত্র তিন মাস পর তিনি অবসরে যাবেন। তবে পাস না করেও লোকজন থাকায় অনেকেই জাতিসংঘ মিশনে যাচ্ছেন।'

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, পুলিশের সমস্যার বিষয়টি সম্পর্কে সরকার অবগত। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সরকারের আন্তরিকতার ঘাটতি নেই। ধীরে ধীরে সব সমস্যার সমাধান হবে।

Sunday, June 24, 2012

যানযট থেকে মুক্তি এবং সড়ক দূর্ঘটনা থেকে বাঁচার উপায় আনুসাঙ্গিক প্রসঙ্গ

যানযট থেকে মুক্তি এবং 

সড়ক দূর্ঘটনা থেকে বাঁচার উপায় আনুসাঙ্গিক প্রসঙ্গ

- বাবুল হোসাইন

 

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

যানযট থেকে মুক্তির উপায়:
১. আইনের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। আইন আমাদেরকে সমানভাবে মানতে হবে।
২. আইনের প্রয়োগ থাকতে হবে এবং আইন সবারজন্য সমান থাকতে হবে।
৩. আইন অমান্যকারীর শাস্তি ও জারমানা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য আরও বাস্তবসম্মত আইন ও তার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
৫. ড্রাইভারদের ধৈয্য থাকতে হবে। আগে যাব আগে যাব চলার মন মানসিকতা ছাড়তে হবে। আপনি চলাচল করুন ও অন্য গাড়ী চলাচল করার সুযোগ দিন ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন।
৬. ট্রাফিক সার্জেন্ট নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা।
৭. রাস্তার পাশে পার্কিং করা যাবে না।
৮. বড় মার্কেট, মাল্টিস্টোরেট বির্ল্ডিংগুলোর যাথেষ্ট পার্কিং স্পেস গড়ে তুলতে হবে।
৯. আইন সবার জন্য সমান থাকতে হবে।
১০. আইন না মানলে তাকে জরিমানা ও জেল দিতে হবে।
১১. ঢাকার ভিতরে পূর্ব ও পশ্চিমে রাস্তা বাড়াতে হবে বা লিংক রোড বাড়াতে হবে।
১২. আন্ডারপাস ও ফ্লাইওভার গড়ে তুলতে হবে।
১৩. রাস্তার কোথাও সিটি কর্পোরেশনের ময়লার কন্টেইনার রাখা যাবে না।
১৪. মেইন রাস্তার পাশে স্কুল কলেজ গড়ে তোলা যাবে না।
১৫. আবাসিক এলাকায় ব্যস্ত অফিস গড়ে তোলা যাবে না।
১৬. রাস্তার পাশে নির্মাণ সামগ্রী রাখা যাবে না।
১৭. রাস্তার সংস্কার কাজ ও মার্কিং করে রাস্তা সুন্দর রাখতে হবে।
১৮. রাস্তার সিগনাল বাতির জন্য স্বনির্ভর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
১৯. ফুটপাথ দখলমুক্ত করা করতে হবে।
২০. বামপাশের লেন বন্ধ করা যাবে না, বন্ধ করলে জরিমানা ও শাস্তি পেতে হবে।
২১. রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় লুকিং গ্লাস, পিছনে ব্রেক লাইট ইন্ডিকেটর লাইট, ও গাড়ির নাম্বার প্লেট স্পষ্ট থাকতে হবে। গাড়িতে এড দেয়া চলবে না।
২২. বাস নির্ধারিত স্টপেজে থামবে ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ছেড়ে যাবে। বাম পাশ ঘেষে যাত্রী উঠানামা করতে হবে।
২৩. সাধারণ জনগণ ফুটপাথ, ফুট ওভারব্রীজ, জেব্রা ক্রসিং, আন্ডারপাস ব্যবহার করুন।
২৪. সি.এন.জি ষ্টেশনগুলোর দ্রুত সার্ভিস দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
ক. গ্যাসের চাপ যাতে কম না থাকে।
খ. পাঁচ ঘন্টা বন্ধ থাকার আইন শিথিল করা।
২৫. ঢাকার শহরতলী বা উপশহরস্থাপন করে শিল্পস্থাপনা, গার্মেন্টস শিল্প স্থানান্তর করা।
২৬. ঢাকা শহরের বাহিরে রেল নিয়ে যাওয়া। অথবা আন্ডারপাস বা ফ্লাইওভার স্থাপন করা যাতে বাস লাইন সরা সরি ক্রস না কারে।
 

সড়ক দূর্ঘটনা থেকে বাঁচার জন্য
সবার প্রতি পরামর্শ :
১. ড্রাইভার ভাইদের ধৈর্য্য থাকতে হবে।
২. ড্রাইভারদের অত্যধিক আত্মবিশ্বাস কমাতে হবে।
৩. আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন।
৪. নেশা জাতিয় দ্রব্য ব্যবহার করবেন না।
৫. আগে যাব আগে যাব চলার মন মানসিকতা ছাড়তে হবে।
৬. চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ব্যবহার করবেন না ও চোখে ঘুম নিয়ে গাড়ি চালাবেন না।
৭. অস্থির মন নিয়ে গাড়ি চলাবেন না।
৮. একটানা ৫/৬ ঘন্টা গাড়ী চালনার পর বিশ্রাম নিন।
৯. আন্তজেলা গাড়ী চালনার সময় নির্দিষ্ট দূরত্ব পার হওয়ার পরপর বিশ্রাম নিন।
১০. গাড়ী চালনাকালে সময়ের চাইতে জীবনের মূল্য দিন।
১১. রোড আঁকাবাঁকা ও ভাঙ্গাচোরা ও রোড সাইন দেখে গাড়ি ড্রাইভ করুন।
১২. সাধারণের গাড়ি চালানোর সময় মাথা ঠান্ডা করে গাড়ি চালান।
১৩. গাড়ী ওভার টেকিং করার সময় খুব সতর্কতার সাথে ওভারটেকিং করুন।
১৪. গাড়ি রাস্তায় চালনোর পূর্বে আপনার গাড়ির ফিটনেস দেখে নিন। যেমন- ব্রেক, টায়ার এবং টায়ারের হাওয়া, ইঞ্জিনের মবিল, পানি, ব্রেক অয়েল, গিয়ার, অয়েল ভাল করে পরীক্ষা করে নিন।
১৫. রাস্তায় গাড়ি চানানোর সময় আপনার গাড়ির লুকিং গ্লাস, হেড লাইট, ব্রেক লাইট, ইন্ডিকেটর লাইট চেক করে নিবেন। আপনার লাইসেন্স, গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজ সাথে নিন।
১৬. রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় রাস্তার সিগনাল বাতি, জরুরী প্রতিক, সর্বোচ্চ ও সর্বনি¤œ গতিসীমা মেনে গাড়ি চালাবেন।
১৭. রাস্তায় কম্পিটিশন করে গড়ি চালাবেন না।
১৮. আপনি চলাচল করুন ও অন্য গাড়ী চলাচল করার সুযোগ দিন ।
১৯. বামপাশ ঘেষে যাত্রী উঠানামা করানোর সময় ইন্ডিকেটর বাতি ব্যবহার করুন।
২০. জেব্রা ক্রসিং এর পাশে সাধারণ যাতায়তের জন্য গাড়ী থামিয়ে রাস্তা পারাপরের সুযোগ দিন।
২১. প্রতি দুই থেকে তিন মাস পর পর ভাল কোন ওয়ার্কশপে আপনার গাড়ী পরীক্ষা করিয়ে নিন।


গাড়ীর মালিকদের প্রতি পরামর্শ

১. গাড়ীর মালিক হওয়ার সাথে সাথে রাস্তায় চলাচলের নিয়ম কানুন ভালভাবে জেনে নিন।
২. আপনার ড্রাইভারদেরকে কত ঘন্টা কাজ করাচ্ছেন তা হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করুন।
৩. আপনার ড্রাইভারদেরকে কত বেতন দিচ্ছেন এবং উৎসব ভাতা দিচ্ছেন কিনা?
৪. ওভারটাইম ভাতা দিন। সেই সাথে সাপ্তাহিক ছুটি দিন।
৫. আপনার ড্রাইভারের প্রায়োজনের দিকে নজর রাখুন।
৬. ড্রাইভরদের প্রতি সদব্যবহার করুন ও তাদেরকে প্রাপ্য সম্মান দিন।
৭. আপনার ড্রাইভার রাস্তার নিয়ম কানুন সঠিক ভাবে মানছে কিনা খেয়াল করুন। তার বাজে নেশা আছে কি না সে বিষয়ে নজর রাখুন।
৮. আপনার গাড়ী তিন মাস পরপর বি.আর.টি .এ বা উন্নতমানের ওয়ার্কশপে গাড়ী চেকআপ করাবেন।


রাস্তায় দূর্ঘটনা কেন ও কি কারণে হয়?
১. ড্রাইভারদের ধৈর্য্য না থাকা।
২. ড্রাইভারদের আত্মবিশ্বাস বেশী রকমের থাকা।
৩. রাস্তার স্পিড ব্রেকারের উপর রং না থাকা।
৪. নেশাগ্রস্থ অবস্থায়, চোখে ঘুম, শারীরিক অসুস্থতা, প্রচন্ড টেনশন নিয়ে গাড়ি চালানো।
৫. একটানা ৫/৬ ঘন্টার বেশী গাড়ী চালানো।
৬. আন্তজেলা গাড়ি চালনার সময় নির্দিষ্ট দূরত্ব অন্তর বিরতি না দেওয়া তথা ড্রাইভার এর রেষ্ট না হওয়া।
৭. আন্তজেলা গাড়ি চালনার সময় নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর বিরতির সময় গাড়ির চাকা, পানি ও সাধারণ চেকআপ না দেওয়া।
৮. গাড়ি চালনার সময় একথা ভুলে যাওয়া যে “সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশী”।
৯. গাড়ীর মালিককে ভাবতে হবে- ড্রাইভার ঠিকমত খাওয়া-দাওয়া ও পর্যাপ্ত রেষ্ট নিয়েছে কিনা?
১০. গাড়ীর চলন্ত অবস্থায় গাড়ির স্পিড কত কিলো বেগে চলছে তা খেয়াল না করা।
১১. গাড়ীর মালিক ড্রাইভারকে কত ঘন্টা কাজ করাচ্ছেন?
১২. ড্রাইভারকে জানতে হবে গাড়ী চলন্ত অবস্থায় ধুমপান ও মোবাইলে কথা বলা নিষেধ।
১৩. গাড়ীর মালিক তার গাড়ি উন্নতমানের গেরেজ বা বি.আর.টি কর্তৃক পরীক্ষা করিয়ে নিয়েছে কি না?
১৪. গাড়ীর কাগজপত্র ঠিক করার সময় বি.আর.টি কর্তৃপক্ষ গাড়ী পরীক্ষা না করা বা চেকআপ না করা।
১৫. রোড সাইন রোড সিগনাল বাতি, জরুরী প্রতীক, রোডের গতিসীমা, না মেনে অথবা না জেনে গাড়ি চালানো।
১৬. রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় টায়ার, টায়ারের হাওয়া, লুকিং গ্লাস, হেড লাইট, পিছনের ব্রেক লাইট, ইন্ডিকেটর লাইট, ব্রেক অয়েল, গিয়ার অয়েল, ইঞ্জিন মবিল ও পানি না থাকা বা ব্যবহার না করা।
১৭. রোড আকাবাকা বা রাস্তার ভাঙাচোরা না দেখে গাড়ি চালানো।
১৮. রাস্তায় সাধারণ লোকজন জেব্রাক্রসিং বা ওভারব্রীজ ব্যবহার না করা।
১৯. বাম পাশে ওভারটেকিং করা ও বামপাশ ঘেষে যাত্রি উঠানামা না কারা।
২০. আমরা সাধারণ গাড়ীর যাত্রি চলন্ত অবস্থায় গাড়িতে উঠা।
২১. ষ্টপিজ ছাড়া গাড়ি থামানো ও গাড়ির যাত্রি উঠানামা করা।

রাস্তায় যানজটের কারণ :
১. ড্রাইভারদের ধৈর্য্য না থাকা, লাইন বিহীন বা লাইন ছাড়া গাড়ী চালানো,
২. আইন সবার জন্য সমান নয় বা আমরা সকলে সমানভাবে মানি না।
৩. ট্রাফিক পুলিশ এর অবহেলা ও সেই সাথে সাধারণ জ্ঞান না থাকা ও নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করা।
৪. রাস্তায় সিটি কর্পোরেশনের ময়লার ডিপো থাকা ও রাস্তার পাশে নির্মান সামগ্রী রাখা।
৫. রাস্তা ভাঙা চোরা থাকা ও বামপাশের রাস্তা বন্ধ করে রাখা।
৬. রাস্তার পাশে প্রয়োজনীয় জরুরী প্রতীক না থাকা ও রাস্তায় রোডমার্ক সুন্দর পরিষ্কার না থাকা।
৭. রাস্তায় সিগনাল বাতি না থাকা অথবা নষ্ট থাকা ও বিকল্প হিসাবে সৌর বিদ্যুৎ এর ব্যবস্থা না থাকা।
৮. বহুতল বিল্ডিং এর নিজস্ব পার্কিংস্পেস না থাকায় যত্রতত্র গাড়ী পার্কিং করে রাখা।
৯. ব্যাস্ত রাস্তার পাশে স্কুল কলেজ থাকা।
১০. কাউন্টার বাস এলোপাথারী থামানো ও অনর্থক বিলম্ব করা ।
১১. বাসের জন্য অপেক্ষমান যাত্রিগণ রাস্তার ওপর দায়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করা।
১২. স্বল্প সময়ের জন্য আইনের কড়াকড়ি ও বেশীরভাগ সময়ে আইনের শিথিলতা বিরাজমান থাকা।
১৩. গাড়ির ড্রাইভার ও হেলপার কর্তৃক যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রি উঠানামা করানো।
১৪. রাজপথে ট্রেনিং বিহীন, ড্রাইভিং লাইসেন্স বিহীন ও গন্ডমূর্খ রিক্সাওয়ালাদের নূনতম জ্ঞানশুন্য রিক্সা চালানো।
১৫. গলির মাথায় এলোপাথারী রিক্সার জট, উল্টোপথে যাতায়াত, লাইন বিহীন রিক্সা চালানো।
১৬. ফুটপাথ হকারদের দখলে থাকা এবং রাস্তার উভয় সাইডের ৪০% দোকানদার ও ময়লা আবর্র্জনার দখলে থাকা।
১৭. রাস্তায় সাধারণ লোকজন জেব্রাক্রসিং বা ওভারব্রীজ ব্যবহার না করা।
১৮. সি.এন.জি ফিলিং ষ্টেশনের পাশে গাড়ীর লম্বা লাইন থাকা।
১৯. গাড়ী রাস্তায় চালানোর সময় লোকিং গ্লাস, পিছনে ব্রেক লাইট ও ইন্ডিকেটর লাইট না থাকা বা ব্যবহার না করা।

আমি আশা করি এই কথাগুলো কৃর্তপক্ষ নজরে দিবেন।

সতর্কবাণী
সাবধানে ড্রাইভ করি। সাবধানে রাস্তা পার হই।সাবধানে গাড়িতে উঠি, ফুটপাথ ও ওভারব্রীজ দিয়ে চলাচল করি। আইনকে শ্রদ্ধা করি। দৌড় দিয়ে রাস্তা পার না হই।
 

Source: http://www.somewhereinblog.net

Monday, June 18, 2012

চোরের চুরি করার রাস্তা সব দিক থেকে বন্ধ করে দিন! ওয়েব ক্যাম, আইপি ক্যামেরা এবং মাইক্রোফোন দিয়ে নিরাপত্তার বলয় তৈরি করুন বাড়ীতে! চোর পালাবে কোথায়!

চোরের চুরি করার রাস্তা সব দিক থেকে বন্ধ করে দিন! ওয়েব ক্যাম, আইপি ক্যামেরা এবং মাইক্রোফোন দিয়ে নিরাপত্তার বলয় তৈরি করুন বাড়ীতে! চোর পালাবে কোথায়!

-

আসলে হেডলাইনটা ঠিক মনের মতো হয়নি আমার। আসলে এই সফটওয়্যার এর এত এত ফিচার দেখে কোনটা রেখে কোনটা বলবো তা ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি। আমাদের মৌলিক চাহিদা অন্ন,বস্র, বাসস্থানের পরে যে বিষয়টা আসে তা হলো নিরাপত্তা। যদিও নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব সরকারের উপর কিছুটা বর্তায় কিন্তু সে আশায় বসে থাকলে সেন্টু গেঞ্জিটাও চোরের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবেন না। তাহলে কি করতে হবে? কেন নিজেদের নিরাপত্তা নিজেদেরই নিতে হবে।

তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে নিজের বাড়ীর নিরাপত্তা দেয়া তেমন কঠিন কিছু না। তবে এই জন্য আপনার কিছু জিনিস পত্র লাগবে। তবে তেমন দামী কিছু না। একটা কম্পিউটার, ওয়েব ক্যাম বা আইপি ক্যামেরা আর মাইক্রোফোন ব্যাস এতেই চলবে। আপনার বাড়ী যদি অনেক বড় হয় তাহলে একাধিক আইপি ক্যামেরা বা ওয়েব ক্যাম দিয়েও নিরাপত্তার বলয় তৈরি করতে পারবেন।
জিনিস পত্রতো গুছানো হলো এখন এদের কিভাবে ফিট করবেন এই তো? হুম ঠিক এই সময়ে পর্দায় হাজির হবে iSpy নামের অপ্রতিদ্বন্দ্বি ওপেন সোর্স একটি সফটওয়্যার এর। মাত্র ১৩ মেগাবাইটের সফটওয়্যার দিয়ে কি করা যায় না তাই বের করা কঠিন। চলুন  অতি সংক্ষেপে কিছু ফিচার সম্পর্কে জেনে নেই। তবে হ্যা এই বর্ণনা অনেকটা বিশাল রচনার সার্মমের মতো। কারণ এত ফিচার বলে শেষ করা যাবে না।

বাড়ীর নিরাপত্তাঃ

Home Securityআপনার ওয়েব ক্যামগুলো বা আইপি ক্যামেরাগুলো জায়গা মতো ফিট করে নিশ্চিন্তে চলে যান অফিসে বা অন্য কোথাও। যেকোন সময় বাড়ীর অবস্থা চেক করতে পারবেন iSpy এর ওয়েব সাইট থেকে। জরুরি কোন ঘটনা যদি ঘটে যায় তাহলে সাথে সাথে মোবাইলে ম্যাসেজতো চলে আসছেই। আর ইন্সটান্ট ভিডিও দেখতে পাবেন ইউটিউবে অটোমেটিক!

অফিসের নিরাপত্তায় iSpy:

Office Surveillance
অফিসে যদি আপনি না থাকেন তাহলে চোরের জন্য চুরি করার সেটাই ভাল সময়। তাই বাড়ীর নিরাপত্তার
পাশাপাশি যদি অফিসেও iSpy এবং কম্পিউটার সেটিংগুলো ঠিক করে দিতে পারেন তাহলে আর পায় কে!

কর্মক্ষেত্র মনিটরিং:

Work Monitoring
আপনি যদি আপনার অফিসের কর্মচারীরা আপনার অনুপস্থিতিতে কাজ ঠিক মতো করে কিনা তা জানার জন্য চিন্তিত থাকেন তাহলে তাদের কম্পিউটারে iSpy ইন্সটল করে দিন তারপর পাসওয়ার্ড দিয়ে ব্যাকগ্রাউন্ডে ভিডিও রান করে দিন ব্যস! এবার তাদের লাইভ কর্মকান্ড দেখুন পৃথিবীর যে কোন প্রান্ত থেকে।

অটো পদক্ষেপঃ

আপনি iSpy  সফটওয়্যারটি ব্যাচ ফাইল, কমান্ড লাইন, ওয়েব এবং মোবাইল দিয়ে যখন নিয়ন্ত্রণ
Automation
করবেন তখন আপনি যদি কোন ব্যাচ ফাইল রান করাতে চান তাহলে ইচ্ছা করলেই পারবেন। যেমন ধরুন iSpy যখন নড়াচড়া ধরতে পারবে তখনি আপনার বাড়ীর লাইটগুলো জ্বেলে দিবে অথবা কুকুরের কর্কশ শব্দ চালু করে দিবে ইত্যাদি
। আর এসব কিছুই সাথে সাথে জেনে যাবেন আপনার মোবাইলে!


ভূত বা ভিনগ্রহের প্রাণী ধরতেঃ

কি শুনতে অদ্ভুত শোনাচ্ছে? তবে জেনে রাখুন ভূত ধরতে বা ভিনগ্রহের প্রাণী ধরতে iSpy
Office Surveillance
এর চেয়ে সেরা কিছু আর পাবেন না। খুব সুক্ষ্ম নড়াচড়া আর হালকা শব্দ সবই ক্যাপচার করতে পারে।
তাই অনেক মজার কিছু আশা করতেই পারেন!

পোষা প্রাণীদের চোখে চোখে রাখতেঃ

আপনার কুকুরটি যদি চিৎকার করতে থাকে তাহলে iSpy মাইক্রোফোনের মাধ্যমে তা রেকর্ড করে রাখবে। আর তখন যদি আপনার ধমকের প্রয়োজন হয় কুকুরকে থামাতে তাহলে আগে থেকে রেকর্ড করা আপনার ধমকটি সাথেই সাথেই কুকুরকে শুনিয়ে দিবে আর কুকুর হয়ে যাবে ঠান্ডা! :P

Pet Monitoring




মেশিন মনিটরিং :

আপনার যদি কারখানা থাকে তাহলে সেই মেশিনগুলো ঠিক মতো কাজ করছে কিনা তা মনিটরিং করবে iSpy।

Machinery Monitoring
Wildlife Watching

প্রাণী জগত দেখুন আরো কাছ থেকেঃ

একটা ওয়েব ক্যাম রাখুন পাখির বাসায় অথবা আপনার প্রিয় কোন প্রাণীর সন্নিকটে তাহলেই তাদের দৈনিক কার্যক্রম দেখতে পাবেন যখন খুশি।

Theft Protection

চোর প্রতিরোধে iSpy:

আপনার বাড়ীতে যদি কেউ তালা ভেঙ্গে বা আপনার অজান্তে ঢুকে পড়ে আর অন্যান্য জিনিসের সাথে আপনার প্রিয় কম্পিউটারটিও চুরি করতে চায় তাহলে iSpy অটো মোশন ডিটেক্ট করে রেকর্ড করা শুরু করে দিবে যা সাথে সাথেই FTP, মেইল বা ম্যাসেজ করে চোরের ছবি পাঠিয়ে দিবে!

Theft Protection
বাচ্চাদের দেখাশুনার দায়িত্ব দিন iSpy কেঃআপনার বাচ্চাকে চোখে চোখে রাখতে iSpy কে ফিট করে দিন। যদি বাচ্চা কান্না শুরু করে দেয় তাহলেই সাউন্ড মনিটরিং সিস্টেমের মাধ্যমে জেনে নিন আপনার বাচ্চার খিদা লেগেছে :D
এছাড়াও আরো কত ফিচার যে আছে! বিস্তারিত জানুন এখানে।
কিছু স্ক্রিনশট দেখে নেই চলুন।
আরো অনেক ছবি আছে। সাইটে গেলেই পাবেন। এখন কথা হলো কিভাবে ক্যামেরা কনফিগার করবেন এইতো? তেমন বেশি কঠিন কিছু না। আপনার প্রয়োজনেই আপনি সব সেটিংস খুজে নিবেন। ধারণা পেতে দেখুন এই ভিডিও
http://youtu.be/rNorgmOVQI0
আরো বিস্তারিত সেটিংস জানুন এখানে।

ডাউনলোডঃ

iSpy  (Windows XP, Vista, 7 and 8) v4.2.8.0

সাইজ মাত্র ১৩ মেগাবাইট। আর পুরাই ফ্রী!!!!!!

আসলে অনেক ফিচারই বাদ পড়ে গেছে। বাকিগুলো নিজে নিজে আবিস্কার করুন আর মেতে উঠুন প্রযুক্তির নিরাপত্তায়!
ধন্যবাদ সবাইকে। :)

 Source: http://www.techtunes.com.bd/

Tuesday, June 12, 2012

ফরমালিন কি এবং এ থেকে বাঁচার উপায়!

ফরমালিন কি এবং এ থেকে বাঁচার উপায়!



ফর্মালিন (-CHO-)n হল ফর্মালডিহাইডের (CH2O) পলিমার। ফর্মালডিহাইড দেখতে সাদা পাউডারের মত। পানিতে সহজেই দ্রবনীয়। শতকরা ৩০-৪০ ভাগ ফর্মালিনের জলীয় দ্রবনকে ফর্মালিন হিসাবে ধরা হয়। ফর্মালিন সাধারনত টেক্সটাইল, প্লাষ্টিক, পেপার, রং, কনস্ট্রাকশন ও মৃতদেহ সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়। ফরমালিনে ফরমালডিহাইড ছাড়াও মিথানল থাকে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। লিভার বা যকৃতে মিথানল এনজাইমের উপস্থিতিতে প্রথমে ফরমালডিহাইড এবং পরে ফরমিক এসিডে রূপান্তরিত হয়। দুটোই শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

► ফরমালিনের ক্ষতিকর দিক:


▀ ফরমালডিহাইড চোখের রেটিনাকে আক্রান্ত করে রেটিনার কোষ ধ্বংস করে। ফলে মানুষ অন্ধ হয়ে যেতে পারে।


▀ তাৎক্ষণিকভাবে ফরমালিন, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড, কারবাইডসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহারের কারণে পেটের পীড়া, হাঁচি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, বদহজম, ডায়রিয়া, আলসার, চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগ হয়ে থাকে।


▀ ধীরে ধীরে এসব রাসায়নিক পদার্থ লিভার, কিডনি, হার্ট, ব্রেন সব কিছুুকে ধ্বংস করে দেয়। লিভার ও কিডনি অকেজো হয়ে যায়। হার্টকে দুর্বল করে দেয়। স্মৃতিশক্তি কমে যায়।


▀ ফরমালিনযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করার ফলে পাকস্থলী, ফুসফুস ও শ্বাসনালিতে ক্যান্সার হতে পারে। অস্থিমজ্জা আক্রান্ত হওয়ার ফলে রক্তশূন্যতাসহ অন্যান্য রক্তের রোগ, এমনকি ব্লাড ক্যান্সারও হতে পারে। এতে মৃত্যু অনিবার্য।


▀ মানবদেহে ফরমালিন ফরমালডিহাইড ফরমিক এসিডে রূপান্তরিত হয়ে রক্তের এসিডিটি বাড়ায় এবং শ্বাস-প্রশ্বাস অস্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করে।


▀ ফরমালিন ও অন্যান্য কেমিক্যাল সামগ্রী সব বয়সী মানুষের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। তবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে। ফরমালিনযুক্ত দুধ, মাছ, ফলমূল এবং বিষাক্ত খাবার খেয়ে দিন দিন শিশুদের শারীরিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে। কিডনি, লিভার ও বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নষ্ট, বিকলাঙ্গতা, এমনকি মরণব্যাধি ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে শিশু-কিশোররা। শিশুদের বুদ্ধিমত্তা দিন দিন কমছে।


▀ গর্ভবতী মেয়েদের ক্ষেত্রেও মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে। সন্তান প্রসবের সময় জটিলতা, বাচ্চার জন্মগত দোষত্রুটি ইত্যাদি দেখা দিতে পারে, প্রতিবন্ধী শিশুর জন্ম হতে পারে।


▀ এ ধরনের খাদ্য খেয়ে অনেকে আগের তুলনায় এখন কিডনি, লিভারের সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগের সমস্যায় ভুগছেন। দেখা যাচ্ছে, কয়েক দিন পরপর একই রোগী ডায়রিয়ায় ভুগছেন, পেটের পীড়া ভালো হচ্ছে না, চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।


► কিভাবে মাছ থেকে ফর্মালিনের দূর করবেন ?


▀ পরীক্ষায় দেখা গেছে পানিতে প্রায় ১ ঘন্টা মাছ ভিজিয়ে রাখলে ফর্মালিনের মাত্রা শতকরা ৬১ ভাগ কমে যায়।

▀ লবনাক্ত পানিতে ফর্মালিন দেওয়া মাছ ১ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখলে শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ ফর্মালিনের মাত্রা কমে যায়।
▀ প্রথমে চাল ধোয়া পানিতে ও পরে সাধারন পানিতে ফর্মালিন যুক্ত মাছ ধুলে শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ ফর্মালিন দূর হয়।
▀ সবচাইতে ভাল পদ্ধতি হল ভিনেগার ও পানির মিশ্রনে (পানিতে ১০ % আয়তন অনুযায়ী) ১৫ মিনিট মাছ ভিজিয়ে রাখলে শতকরা প্রায় ১০০ ভাগ ফর্মালিনই দূর হয়।

► কিভাবে ফল ও সবজি থেকে ফর্মালিনের দূর করবেন ?


▀ খাওয়ার আগে ১০ মিনিট গরম লবণ পানিতে ফল ও সবজি ভিজিয়ে রাখতে হবে।

 

Sourece: মোস্তফা ১২

http://www.somewhereinblog.net 

 

Thursday, October 6, 2011

পারসোনার স্পা দৃশ্য এখন জনপ্রিয় ওয়েব সাইটে


পারসোনার স্পা দৃশ্য এখন জনপ্রিয় ওয়েব সাইটে

শফিক রহমান :: পারসোনা বিউটি পার্লারের সিসি ক্যামেরা কেলেঙ্কারির পর এবার গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা অর্ধ শতাধিক স্থিরচিত্র জনপ্রিয় ওয়েব সাইট ফেসবুকে ছেড়ে দেয়ায় তোলপাড় চলছে। এই অপকর্মটির সঙ্গে জড়িত রয়েছে খোদ পারসোনা কর্তৃপক্ষ।
প্রায় অর্ধ শতাধিক নারীর স্পা করার দৃশ্য শোভা পাচ্ছে ফেসবুকে। নারীদের স্পা করার চিত্র দেখে গত তিনদিনে ফেসবুকে প্রায় শতাধিক নারী-পুরুষ পারসোনাকে ধিক্কার দিয়েছেন।

এদিকে পারসোনার সিসি ক্যামেরা কেলেঙ্কারির ঘটনায় পুলিশের গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট চূড়ান্ত হলেও বুধবার তা দাখিল করা হয়নি। তদন্ত কমিটির প্রধান গুলশান ডিভিশনের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এডিসি নিজামুল হক মোল্লা জানান, তদন্ত কাজ শেষ পর্যায়ে। খুব শিগগিরই তা জমা দেওয়া হবে। পারসোনা বিউটি পার্লারের

গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা স্পা দৃশ্যগুলো নারী গ্রাহকদের অজান্তে গোপন ক্যামেরায় তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ করেছেন ফেসবুকে পারসোনার ওয়েব সাইটে পরিদর্শনকারী প্রায় শতাধিক নারী- পুরুষ।

ফেসবুকে পারসোনা সাইট পরিদর্শনকারী কুশল আহমেদ মন্তব্য করেছেন, দৃশ্যগুলো নারী গ্রাহকদের অজান্তে তুলে পারসোনা ব্লাকমেইল করেছেন। ফারহানা হালিম শান্তা মন্তব্য করেছেন ছিঃ, এটা কি করে করল পারসোনা। ওরা বিশ্বাস ঘাতক, ওদের বিচার করুন। নাসিম আনজুম সিয়ামের মন্তব্য যারা নারী হয়ে নারীর ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলে তাদের জানাই ছিঃ ছিঃ ছিঃ। নিশাত খান সোমার মন্তব্য, এটা স্পা না জঘন্য কারবার। সেলিনা খান ছোটনের মন্তব্য আহ কি শান্তি। ফারজানা ইয়াসমিনের মন্তব্য রিলাক্স। শামামা সেহরিনের মন্তব্য জোশ ছবি। মনিকা শারমিনের মন্তব্য লাভলি। নাহিদা ইমরান নিশুর মন্তব্য স্পার দাম কত?

ফেসবুকে নারী গ্রাহকদের স্পার দৃশ্যগুলো পারসোনার দাবি করে কপিরাইট হিসেবে পারসোনা হেয়ার অ্যান্ড বিউটি পার্লার লিমিটেড উল্লেখ করা হয়েছে। এ সম্পর্কে জানতে পারসোনার বনানী ও গুলশান শাখায় যোগাযোগ করা হয়। গুলশান শাখায় ফোন রিসিভকারী লাকী নামের জনৈকা নারী প্রথমে স্পা কি জানেন না এমন মন্তব্য করেন। পরে প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার কানিজ আলমাসকে চাওয়া হলে তিনি কিছুক্ষণ ফোন ধরে রেখে বলেন, ম্যাডাম চলে গেছেন। পরে বনানী শাখায় যোগাযোগ করা হলে সেখানকার ইনচার্জ পরিচয়দানকারী মিজানুর রহমান দৈনিক ডেসটিনিকে জানান, পারসোনা নারীদের একাধিক রকমের স্পা করা হয়। এরমধ্যে রয়েছে কয়েক ধরনের বডি (শরীর) ক্লিনিং, বডি ম্যাসাজ, বডি ফেসিয়াল ইত্যাদি। স্পার মূল্য কত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২৬০০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত। বিষয়টা সার্ভিসের ওপর নির্ভর করে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। শুক্র, শনি ও বৃহস্পতিবার_ এই তিনদিন পারসোনায় স্পা করা নারীদের ভিড় থাকে। এ সময় স্পা করতে সিরিয়াল পড়ে।

একাধিক বিউটি পার্লার বিশেষজ্ঞ  জানান, স্পা আসলে টাকাওয়ালাদের সৌন্দর্যবর্ধনের নামে এক ধরনের ফূর্তি। এটা না হলেও যেমন চলে তবে বাড়তি কিছু। তবে বিউটিশিয়ানরা জানান, আসলে দেহমনের প্রশান্তি এনে দেওয়ার এক ধরনের থেরাপির নাম হচ্ছে স্পা। সাধারণভাবে বডি ম্যাসাজ নামে স্পা সমধিক পরিচিত।

শরীর ও মনের সুখের জন্য মহিলারা বিউটি পার্লারে স্পা করে। জানা গেছে, বিভিন্ন ধরনের স্পার রয়েছে বিউটি পার্লারে। এর মধ্যে বডি ম্যাসেজ, হেয়ার ম্যাসেজ, ফেইস ম্যাসেজ, নার্ভ, ব্রেন, জয়েন্ট ও ব্যাকপেইনের ম্যাসেজ। ইদানীং চিকিৎসার ক্ষেত্রেও স্পার ব্যবহার বাড়ছে বলে একাধিক লেজার চিকিৎসক জানিয়েছেন। এ সম্পর্কে পারসোনার ব্যবস্থাপনা পরিচালক কানিজ আলমাসের সেল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার পিএ পরিচয়দানকারী এক নারী জানিয়েছেন, ম্যাডাম এখন ব্যস্ত পরে কথা বলবেন।

এদিকে বিউটি পার্লার পারসোনার সিসি ক্যামেরা কেলেঙ্কারির ঘটনায় পুলিশের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রায় চূড়ান্ত হলেও তা জমা না দিয়ে ৩ দিন সময় বাড়িয়ে নিয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান জানিয়েছেন, শিগগিরই তারা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন। পূজার ব্যস্ততার কারণে তারা তদন্ত কাজ শেষ করতে পারেননি বলে সময় বাড়িয়ে নিয়েছেন। তদন্ত কমিটি পারসোনার স্বত্বাধিকারী কানিজ আলমাস খান, অভিযোগকারী নারী চিকিৎসক তার স্বামীসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছেন। তদন্তে পারসোনার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ঘাটিত হয়েছে বলে জানা গেছে। ওই ঘটনায় জব্দ করা হার্ডডিস্ক থেকে ধারণ করা ভিডিওর কিছু অংশ মুছে ফেলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটি।




স্পা থেকে সমকামিতা হয়ে আবু গারীব কারাগার (নারীবাদী/নগ্নবাদীদের মহৌষধ) 

 

Shabnaj Rafnee Mithila আপার এই নোটটি ফেসবুকে অসংখ্যবার শেয়ার এবং হাজার হাজার বার লাইক করা হয়ে গেছে। এবং ব্লগেও অনেকবার শেয়ার করা হয়েছে। তারপরও আবার শেয়ার করলাম। পড়ে না থাকলে নিজ দায়িত্বে পড়ে নিন।
..............
আমার ভেতর থেকে প্রচন্ড তাগিদ না পেলে আমি লিখতে বসিনা। ওটা আমার কাজও না। ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলতেও আমার আপত্তি নেই যতটা আপত্তি এই লিখার ক্ষেত্রে। এই লিখা যখন লিখছি তখন প্রচন্ড রাগে আমার গা জ্বলছে।
আমি এত ভূমিকা না করে সরাসরি আসল কথায় আসি। স্পা না করলে কি মেয়েরা মরে যাবে? বাঙ্গালী মেয়ারা যথেষ্ঠ রূপবতী। এই রূপ গত কয়েক বছরে ধুম করে জেগে ওঠেনি। তারা আগেও রূপবতী ছিল এখনো আছে। আমি জানিনা যে স্পা তে এমন কি আছে যে তার রূপে এমন বিশেষ কিছু অ্যাড করবে যা না থাকলে তার জীবন চলবেনা? যার কারনে অন্য একজন মানুষের সামনে আধা নগ্ন হয়ে body message করাতে হবে। লজ্জা শরমের মাথা কি কাঁচাই খেয়ে ফেলছি আমরা?

আমাদের মায়েরা ,দাদীরা,নানীরা তো কোনদিন এইসব করেনি। তাতে কি আমাদের বাবারা, নানারা,দাদারা তাদের ছেড়ে চলে গেছে? না তাদের বিয়ে হয়নি? কি ক্ষতি হয়েছে তাদের যারা নিজেদের অন্যের সামনে কাপড় খুলে শরীর মর্দন করান নি?

আমি নিজে মেয়ে মানুষ। আমি খুব ভাল করেই জানি মেয়েরা এত সাজ গোজ কেন করে। খুবই সিম্পল উত্তর। মানুষ তাদের দিকে তাকাবে , প্রশংসা করবে। কার না ভাল লাগে প্রশংসা শুনতে! আমারো ভাল লাগে।কিন্তু আপারা দুনিয়ায় খালি আমরা মেয়েরাই নাই। আমাদের ভাইরাও আছে। সৃষ্টিগতভাবে যারা আপনাদের উপর এবং আপনারা তাদের উপর দূর্বল। কিন্তু এইটা ভাইদের ক্ষেত্রে একটু না অনেক বেশি। এই কথাগুলা বলতে আমার খুবই খারাপ লাগে। অনেক বেশি লজ্জা লাগে এই জন্য যে এত ব্যাখ্যা করে আমার বোনদেরকে এসব আমার বলতে হয়। আমি বাংলায় এসব লিখতে পারবনা।


Most of the man gets sexually aroused when---


আপনি টাইট ফিটিং কাপড় পরেন।

আপনি ওড়না পরেন না/ গলায় ঝুলায় রাখেন/ একপাশে ঝুলায় রাখেন।

আপনি যখন অর্ধস্বচ্ছ কাপড় পরেন। 
আপনার পেট/পা/পীঠ যখন দেখা যায়।
আপনি যখন ঠোঁট রাঙ্গান।

আপনি যখন চোখে স্মোকি সাজ পরেন।

আরও শত শত কারন থাকতে পারে।


কি ? মনে হচ্ছে যে ছিঃ ছিঃ ছেলেরা এত খারাপ! তাইনা? The fact is that they are CREATED like this. Do you understand my dear sisters? THEY ARE CREATED BY ALLAAH LIKE THIS.


শুধু আল্লাহ্‌র ভয়/সমাজের ভয়/ ভালত্ব/ সুস্থ বিবেক আছে দেখেই এখনো কোন ভাই এই ধরণের আপাদের রাস্তায় ধরে কষে কষে কয়েকটা চড় বসান নি।[আল’হামদুলিল্লাহ। এই বিপদ আমার উপর আসার আগেই আল্লাহ্‌ আমাকে রক্ষা করেছেন।একবার কি হল, তখনো আমি ঠিকমত হিজাব করিনা, মাথায় একটু আধটু কাপড় দেই। একদিন প্রচন্ড গরমের মধ্যে ক্লাসে গেছি। মাথায় কাপড় দেইনি। আমাদের সাথে সিনিয়র অফিসাররাও ক্লাস করতেন। এঁদের মধ্যে একজন ভাই পুরো ক্লাসের মধ্যে আমাকে এমন ঝাড়ি দিলেন! টিচার ছিল, সব স্টুডেন্ট ছিল। আমি খুব কষ্ট পেয়েছিলাম, ক্লাস থেকে বের হয়ে গেছি। অনেক কান্নাকাটি করেছি। ভাইয়া আমাকে বলেছিলেন, "The Jews know our scriptures better than us, but they do not follow.[Inspite of knowing about hijab you don't wear it properly,so] Do you think you are better than that Jew?" এই একটা কথা আমার ভেতরটা কাঁপিয়ে দিয়েছিল। আমি বলেছিলাম হিজাব পরলে আমার কষ্ট হয়, দম বন্ধ হয়ে যায়, এ সি রুমেও ঘামতে থাকি। উনি বললেন, " Did you ask Allaah to help you with this?" আসলেই তো, যার জন্যে হিজাব করছি তাঁর কাছেই তো সাহায্য চাইনি। আমি আর কোন উত্তর দিতে পারিনি ভাইয়াকে। উনি ঠিক কথাই বলেছিলেন আমাকে। হয়ত রুক্ষভাবে বলেছেন,কিন্তু ওই সময় আমার জন্য ওগুলো থাপ্পড়ের কাজ করেছে, আল'হামদুলিল্লাহ এখন তীব্র গরমেও মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢেকে রাখলেও আমার কোন অসুবিধা হয় না। আমি গরম লাগার দোহাই দিই। কিন্তু ওইদিন কি হবে যেদিন সূর্য মাথার এক হাত উপরে থাকবে। আল্লাহ্‌ মাফ করুন। ]

আপারা,আরো কয়েকটা uncensored কথা বলি। এটা জানেন তো যে মানুষ(অধিকাংশ) খুব সহজেই বোর হয়ে যায় আর নতুন কিছু খুঁজতে থাকে যা তাকে আনন্দ দেবে। পশিমাদের মধ্যে হোমসেক্সুলালিটি এত বেশি এর কারন নিয়ে কখনো চিন্তা করেছেন? কেন যেখানে চাইলেই মানুষ আপনার বিছানায় আসতে রাজী সেখানে কেন মেয়ে মেয়ের সাথে ছেলে ছেলের সাথে যেতে চায়? এরা নারী দেহ দেখতে দেখতে ক্লান্ত। এদের রূচি আস্তে আস্তে বিকৃত হয়ে গেছে। এখন তারা নিজেদের মধ্যে থেকেই সংগী খোঁজে। আল্লাহ্‌ মাফ করুন। হেদায়েত দিন।


আপারা, আমার লেখা এলোমেলো হচ্ছে আমি জানি। রেগে আছি তো তাই।

একটা কথা বলি শোনেন। আপনি মানুষকে যা দেখাবেন তা দেখেই তারা আপনার মূল্যায়ন করবে। মানুষের শরীরের সৌন্দর্য এক সময় শেষ হয়ে যায়। তাই আজকে যারা আপনাকে বলছে, তোকে তো দারুন লাগছে/ আপনার ফেসবুকের ছবিতে প্রশংসার পর প্রশংসা করে যাচ্ছে...... ।।আর এই সব দেখে আপনি খুশিতে ডগমগ করেন।।আজ থেকে ২০ বছর পরের কথা চিন্তা করেন...এই ছেলেরা তখন ৩৮/৪০ ।তখন আপনার প্রশংসা করবেনা। তারা কিন্তু ঠিকই ১৬-২৫ দেরকেই খুঁজবে।

কিন্তু আপারা, একটা কথা জানেন? মনের সৌন্দর্য শেষ হয় না। মন জরাগ্রস্ত হয়না। একটা সুন্দর মন, শালীন দেহ সর্ব কালে সর্ব যুগে প্রশংসিত। আজকের বোরকা পরা মেয়েকে দেখলে যেমন আপনার যারা প্রশংসা করে সেই ছেলেরাও মাথা নামিয়ে নেয়,আমার দাড়ি টুপি ওয়ালা ভাইরাও নামিয়ে নেয়। আজ থেকে ২০ বছর পর দেখলেও তারা দৃষ্টি নামিয়ে নিবে, ইনশা’আল্লাহ। আমার এই বোনেরা আজকেই সম্মানিত। কালকেও থাকবে ইনশাআল্লাহ্‌। আর আপনাদের কি হবে? আজকে আপনারা যাদের চোখ জুড়াচ্ছেন কাল তারা আপনার দিকে তাকাবেই না। আর সম্মান??? সেটা আজকেও কেউ আপনাদের করেনা, ভবিষ্যতে করবে কি আল্লাহ্‌ ভাল জানেন।


আপারা, চাকরানী চেনেন??? দাসী চেনেন??? আপনার হলেন পুরুষদের চাকরানী নয়তো মেকাপের দাসী। ঘন্টার পর ঘন্টা সময় নিয়ে এত সাজ গোজ যে করেন...পরে তো সেগুলো তত কষ্ট করেই ঘষে ঘষে তুলে ফেলতে হয়। কি লাভ এই কৃত্তিমতার?


এই যে একেকজন ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং , ভার্সিটিতে পড়ছেন অথচ নিরেট মূর্খের মত আচরণ কেন করছেন?

আপনার এত এত বিদ্যা আপনাকে কেন রঙ চঙ্গের আশ্রয় নেয়া থেকে বাঁচাতে পারেনা???

কেন অফিসে/অফিসিয়াল কনফারেন্স/কনভোকেশন/নবীন বরণ/ ফেয়ারওয়েলে যাবার আগে আপনার নিজের চেহারায় এত ঘষা মাজা করতে হয়? এসব যায়গার তো আপনি আপনার লেখাপড়ার কল্যানেই যাচ্ছেন তাই না? তাহলে কেন সব কিছু ছাপিয়ে আপনার সাজ গোজ সেখানে প্রাধান্য পাবে???

কি করলেন এত লেখাপড়া করে যা আপনার মানসিকতাকে বদলাতে পারেনি?

দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে পড়েও কেন আপনাকে ছোট ছোট কাপড়, কিছু রঙ চঙ্গের উপর নির্ভরশীল হতে হয়। বলতে পারেন?

আপারা বলেন তো দেখি আপনার এক মাসের পার্লারের খরচ দিয়ে কয়জন ক্ষুধার্ত মানুষকে খাওয়ানো যায়? আচ্ছা ধরলাম চালের কেজি ৫০ টাকা। ২০০০ টাকা হলে এক মণ চাল হয়। একটা ছোট পরিবারের ১৫-২০ দিনের খাবার ব্যবস্থা হয়ে যায়। কোনদিন ৫০০ টাকা খরচ করে ১০ কেজি চাল কিনে কোন দরিদ্র মানুষকে দেয়ার কথা ভেবেছেন কখনো? অথচ আপনার পা ঘষে দিলেই আপনি ৫০০ টাকা পার্লারে দিয়ে আসেন। কি আশচর্য! আপনি যখন পা দলাই মলাই করে নিচ্ছে তখন কোথাও কোন সনাবরু না খেতে পেয়ে গলায় দড়ি দিচ্ছে।

আপনি যখন সেজে গুজে বন্ধু বান্ধবের সাথে নবীন বরণ বা ফেয়ারওয়েল এ নাচানাচি করছেন তখন আপনার বোন আফিয়া সিদ্দিকা/ফাতিমেকে প্রতি রাতে ১০ জন মার্কিন সৈন্য ধর্ষন করছে।RAPE. কখনো এদের জন্য আপনার চোখে পানি এসেছে? একবার চিন্তা করুন তো, আপনাকে বানরের মত খঁচায় রাখা হয়েছে যেখানে আপনি সোজা হয়ে দাঁড়াতেও পারেন না, আপনার গায়ে কাপড় পর্যন্ত রাখা হয় নি, আপনার সামনে আপনার দুই সন্তানকে জবাই করা হয়েছে,আপনার একটা একটা করে চুল টেনে টেনে উপড়ে ফেলা হয়েছে, আপনার পেটে গুলি করা হয়েছে, ইলেক্ট্রিক শক দেয়া হয়েছে, তার সাথে সাথে যখন তখন আপনাকে ধর্ষন করা হচ্ছে। কি বেশি বলে ফেললাম???

Source: প্রাণ ঝরনা, http://www.sonarbangladesh.com 

Sunday, June 26, 2011

সেবার নামে গ্রাহক ভোগান্তি বাড়ছে কুরিয়ার সার্ভিসে

সেবার নামে গ্রাহক ভোগান্তি বাড়ছে কুরিয়ার সার্ভিসে* নথি ও মালামাল হারিয়ে যাচ্ছে
* ঠিক সময়ে পৌঁছায় না ডাক
* ক্ষতিপূরণ পান না গ্রাহকরা
শেখ শাফায়াত হোসেন ডাকবিভাগের ধীরগতি ও ভোগান্তির ফলে মানুষ নির্ভরশীল হচ্ছে বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসের ওপর। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় চিঠি ও জিনিসপত্রের পাশাপাশি টাকাও পাঠানো হচ্ছে এই সেবা খাতের মাধ্যমে। প্রায় তিন যুগ আগে চালু হওয়া এ সেবা খাতে কম্পানির সংখ্যার সঙ্গে বেড়েছে বিনিয়োগও; কিন্তু নির্ভরশীলতা বাড়ার উল্টোপথে কমতে থাকছে সেবার মান। গ্রাহক ভোগান্তি বেড়েই চলছে কুরিয়ার সার্ভিসে। ডাকবিভাগের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে কয়েক গুণ বেশি ব্যয় হচ্ছে গ্রাহকদের এ সেবা পেতে। তার পরও থাকছে নানা ঝুঁকি। গুরুত্বপূর্ণ নথি, চিঠি ও মালামাল হারিয়ে যাচ্ছে। আর এ কারণে ক্ষতিপূরণ পান না কেউ। অনেকেই অভিযোগ করছেন, ঠিক সময়ে ডাক না পেঁৗছানোর। আছে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার বিড়ম্বনাও।
বাংলাদেশ কুরিয়ার সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (সিএসএবি)র তালিকাভুকক্ত ৪২টি দেশি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব উদ্যোগে দেশে ডাক ও পণ্য পরিবহন সেবা দিয়ে আসছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান শাখা ছাড়া অন্য সব শাখার অফিস ব্যবস্থাপনা খুব একটা ভালো নয়। প্রতিটি জেলা শহরের সদর থানার মার্কেটে ছোট আকারের দোকানে চেয়ার-টেবিল নিয়ে বসেন, কুরিয়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিরা। স্বল্পপরিসরে খুবই অব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে এ কুরিয়ার সার্ভিসগুলো। ২৮ বছর আগে চালু হওয়া প্রথম দিকের অনেক প্রতিষ্ঠানই আর আগের মতো ব্যবসা করতে পারছে না।
সিএসএবির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ মুসা রেজা কালের কণ্ঠকে জানান, দেশের অগ্রবর্তী কুরিয়ার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সুন্দরবন, পাইওনিয়র, ড্রিমল্যান্ড, কন্টিনেন্টাল ও এসএ পরিবহন লি. শুরু থেকে বেশ ভালো সেবা দিয়ে আসছে। প্রথমদিকে সেবার মান কিছুটা ভালো হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠান খুব দ্রুত সবার কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। একটু বেশি খরচ হলেও দ্রুত প্রাপ্তির নিশ্চয়তায় পণ্য ও অর্থ প্রেরণের জন্য অধিকাংশ লোকই এসব প্রতিষ্ঠানে ভিড় করে।
শহরের অধিকাংশ ছাত্র দ্রুত টাকা পেতে এসব কুরিয়ার সার্ভিসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া শহরে কর্মরত স্বল্পআয়ের অনেক শ্রমজীবী মানুষ কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে গ্রামের স্বজনদের কাছে টাকা পাঠাতে বেশ সচ্ছন্দ বোধ করে। যখন এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কদর বাড়তে শুরু করল, ঠিক তখনই এসব কুরিয়ার সার্ভিসের সেবার মান বেশ কমতে শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলছে খোদ এর সেবা গ্রহিতারা। প্রথম সারির কয়েকটি কুরিয়ার সার্ভিসের বিভিন্ন শাখায় সরেজমিন ঘুরে এসব অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া গেছে।
সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস লিমিটেড
কুরিয়ার সার্ভিসের অভিযোগ কেন্দ্রে ঘর্মাক্ত অবস্থায় ছুটে এসেছিলেন একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মচারী রস্তম আলী। মে মাসের ২৯ তারিখে অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান শাখা থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে মিরপুরের একটি ঠিকানায় পাঠিয়েছিলেন তিনি। ১৭ দিন পার হয়ে গেলেও নথি প্রাপকের কাছে না পেঁৗছলে তিনি মতিঝিলে অবস্থিত সংশ্লিষ্ট কুরিয়ার সার্ভিসের প্রধান শাখায় নিজেই এসেছিলেন খোঁজ নিতে। এসে জানতে পারলেন, নথির কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। এখন তাকে প্রায় নিয়মিতই যেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট ওই কুরিয়ার সার্ভিসের শাখায়।
অভিযোগ কেন্দ্রের কর্তব্যরত কর্মকর্তারা এক দিনের মধ্যে নথি ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে পরের দিন ওই অফিসে আবার যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন বলে রস্তম আলী জানান। গত ১৫ জুন দুপুরে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস লিমিটেডের প্রধান শাখায় গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ কেন্দ্রে আটজন লোক বসে আসেন। তাঁদের কারো অভিযোগ নথি প্রাপকের হাতে পেঁৗছেনি, আবার কেউ পার্সেল পাচ্ছেন না। এক ঘণ্টা অভিযোগ কেন্দ্রে বসে দেখা যায় প্রায় ১৫ গ্রাহক অভিযোগ দাখিল করেছেন। ফোনে আরো ১০ থেকে ১২ গ্রাহককে অভিযোগ দিতে শোনা যায়।
এ ধরনের একটি অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হলের ছাত্র তোফায়েল আহমেদ। সম্মান পাসের পর একটি ব্যাংকে চাকরির জন্য আবেদন করেছিলেন তিনি। আবেদনপত্রে গ্রামের ঠিকানা উল্লেখ থাকায় ইন্টারভিউ কার্ডটি তাঁর গ্রামের বাড়িতে চলে যায়। তাঁর বাবা গত ১২ জুন টাঙ্গাইলে অবস্থিত সুন্দরবন কুরিয়ারের একটি শাখা থেকে তোফায়েলে আহমেদের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের ঠিকানায় কার্ডটি কুরিয়ারে পাঠান; কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্ড হাতে না পেয়ে তিনি নিজেই এসেছেন সংশ্লিষ্ট ওই কুরিয়ার সার্ভিসের প্রধান শাখায়। তাঁর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁর ১৯ জুন সাক্ষাৎকারের তারিখ; কিন্তু তিনি তখনো কার্ড হাতে পাননি। এ ব্যাপারে অভিযোগ কেন্দ্রের কর্মকর্তরা তাঁকে এক দিনের মধ্যে তাঁর কার্ডটি পেঁৗছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে তিনি কালের কণ্ঠকে জানান।
এমনি আরো অভিযোগ নিয়ে আসেন ইউনিটুলসের এক কর্মচারী। দেড় ঘণ্টা বসিয়ে রেখে অভিযোগ কেন্দ্র থেকে তাঁকে জানানো হয় যশোরের ডাক সেদিন দেরিতে এসেছে। তাই তাঁকে অপেক্ষা করতে হবে। এভাবে আরো অনেককেই অপেক্ষা করতে দেখা যায় সংশ্লিষ্ট ওই কুরিয়ার সার্ভিসের প্রধান শাখায়।
এ ব্যাপারে ওই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাঁরা সবাই মিটিংয়ে আছেন বলে দায়িত্বরত অফিস পিয়ন জানায়। পরবর্তী সময়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস লিমিটেডের প্রশাসন বিভাগের সহকারী সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, এই সেবা কেন্দ্রটি পরিচালনার সঙ্গে ১০ হাজারের বেশি লোক নিয়োজিত। সারা দেশে পাঁচ শতাধিক বুথ থেকে গ্রাহককে এই সেবা দেওয়া হচ্ছে। এত বড় একটি প্রতিষ্ঠানে কিছু অভিযোগ তো আসতেই পারে। তবে নিজেদের দোষ স্বীকার না করে গ্রাহকদের দায়ী করে বলেন, 'অধিকাংশ সময়ে গ্রাহকের ভুলের কারণে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে দেখা যায়।'
কন্টিনেন্টাল কুরিয়ার সার্ভিস
নথি পাঠানোর কথা ছিল ঢাকার জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে; কিন্তু চলে গেছে চট্টগ্রামে। গুরুত্বপূর্ণ নথি ঠিক সময়ে না পেঁৗছায় এখন বিপাকে আছেন জনতা ব্যাংকের কল্যাণ বিভাগের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল কুদ্দুস আকন্দ (রসিদ নম্বর-১২৯০৪৪)। নথিটি শুধু চট্টগ্রামে চলে যায়নি, সেটি ফেরত পেতে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই কর্মকর্তা।
সরেজমিনে ১ জুন বেলা ২টার দিকে রাজধানীর আরামবাগে অবস্থিত কন্টিনেন্টাল কুরিয়ার সার্ভিসের প্রধান কার্যালয়ের অভিযোগকারীদের ভিড় দেখা যায়। এক ঘণ্টা ওই অভিযোগ কেন্দ্রে বসে থেকে দেখা যায়, পাঁচ গ্রাহক অভিযোগ নিয়ে আসেন। সবারই অভিযোগ নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার অনেক পরও ডকুমেন্ট তাঁদের হাতে পেঁৗছেনি। এর মধ্যে একজনের নাম মো. মহসীন আলী। তিনি সবুজবাগ থানার বাসাবোর উত্তর মুগদা ঝিলপাড়ের কন্টিনেন্টালের একটি শাখা থেকে গত ১৬ মে যশোরের উদ্দেশে দরকারি কিছু নথি কুরিয়ারে পাঠান; কিন্তু কুরিয়ার সার্ভিসের ভুলে প্রেরকের কাছেই আবার ফেরত আসে। পরবর্তী সময়ে মহসীন আলী (নথির রসিদ নম্বর ৪১৯১৩৭) ১৮ মে আবার প্রাপকের উদ্দেশে মুগদা মদিনাবাগ অফিস থেকে পুনরায় ডকুমেন্টটি কুরিয়ার করেন। ২৯ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করে প্রাপক অবশেষে যশোর থেকে মহসীন আলীর কাছে ফোন করলে তিনি কন্টিনেন্টালের প্রধান কার্যালয়ে এসে অভিযোগ করেন; কিন্তু তারা বিষয়টি সমাধানের জন্য পরে আসতে বলে। পরের দিনও সেই ডকুমেন্টটি প্রাপকের কাছে না পেঁৗছলে তিনি অভিযোগ কেন্দ্রে এসে লিখিত অভিযোগপত্র দাখিল করে এর প্রতিকার দাবি করেন।
এ বিষয়ে কন্টিনেন্টালের কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন ভুল স্বীকার করে বলেন, এটা কিভাবে হলো, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তবে এক দিনের মধ্যেই এই ডকুমেন্টটি প্রাপককে আনিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
এসএ পরিবহন লিমিটেড
শহরের যে পরিমাণ মানুষ এই সেবার ওপর নির্ভরশীল সে অনুযায়ী প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না কুরিয়ার সার্ভিস। এমনই অভিযোগ পাওয়া যায় এই এসএ পরিবহনের দুটি শাখায় গিয়ে। টাকা তুলতে এসে দীর্ঘক্ষণ বেশ লম্বা লাইন দেখা যায় গ্রাহকদের। এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা তুলছেন অনেকই। ঢাকার এ্যালিফেন্ট রোডের এসএ পরিবহন লিমিটেডের একটি শাখায় টাকা তুলতে এসে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন ঢাকা কলেজের ছাত্র নাজমুস সাদাত। পড়া- লেখার খরচ বাবদ গ্রাম থেকে তাঁর বাবা প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা পাঠান এই কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে। টাকা তুলতে এসে প্রতিবারই এ-রকমভাবে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেছেন বলে জানান তিনি। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'এখানে যে পরিমাণ গ্রাহক সেবা নিতে আসে, সে পরিমাণ সেবা দিতে প্রস্তুত ও ইচ্ছুক নয় প্রতিষ্ঠানটি।'
কাকরাইলে অবস্থিত এসএ পরিবহনের প্রধান শাখায় গিয়ে দেখা গেল সেখানেও প্রচণ্ড ভিড়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাঠানো পার্সেল এই শাখা থেকেই গ্রাহকদের কাছে পেঁৗছে দেওয়া হয়। সারা দেশ থেকে আসা এই পার্সেলগুলো এখানে এনে স্তূপ করে রাখা হয় একটি জায়গায়। গাদাগাদি করে রাখার কারণে অনেক সময় হালকা পার্সেলগুলো নষ্ট হয়ে যায়।
গত ৩১ মে দুপুরে এই শাখা থেকে পার্সেল ছাড় করাতে এসেছিলেন আলমগীর হোসেন নামে এক চাকরিজীবী। তিনি জানান, দিনাজপুর থেকে পাঠানো লিচুর একটি ঝুড়ি হাতে পাওয়ার পর দেখতে পান ঝুড়ির ওপরের কিছু অংশ খোলা। সেখানে কিছু লিচু নেই বলে তাঁর ধারণা। খোয়া যাওয়া লিচুর পরিমাণ খুবই কম বলে তিনি অভিযোগ করতে চান না বলে কালের কণ্ঠকে জানান।
দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে এমন আরেক গ্রাহক শরিফুল ইসলাম জানালেন, তাঁর পার্সেলটা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়ার জন্য ওই শাখার তিন-চারজন কর্মকর্তার কাছে গেলে তাঁরা তাঁকে কিছুক্ষণের কথা বলে প্রায় দুই ঘণ্টা বসিয়ে রাখেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এব ্যাপারে এসএ পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুস সালাম বলেন, 'এই সেবা প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকে সরাসরি সেবা দিয়ে থাকে। নিজেদের পরিবহনে করে সারা দেশ থেকে পার্সেল এনে গ্রাহকের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এত ভালো সেবা আমরাই দিচ্ছি।' তবে তিনি প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা স্বীকার করে বলেন, 'আমরা সেবার মান ভালো করার চেষ্টা করছি।'
দেশের কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠানগুলা মোবাইল ফোন নম্বরের ভিত্তিতে অর্থ ও পণ্য হস্তান্তর করে থাকে। প্রথমদিকে মোবাইল ফোন নম্বরের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য গ্রাহককে প্রতিষ্ঠানের একটি নির্দিষ্ট নম্বরে কল করতে হতো। তখন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে গ্রাহক শনাক্ত করে অর্থ বা পণ্য হস্তান্তর করত কুরিয়ার সার্ভিসগুলো। গত বছর থেকে নম্বর সত্যায়নের জন্য এই নিয়ম বদলে কল রিসিভ করে কেটে দেওয়ার নিয়ম করা হয়েছে। এর জন্য বাড়তি ফোনকলের টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে গ্রাহককে। এসএ পরিবহনের প্রধান শাখায় প্রতিদিন প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার গ্রাহক সেবা নিতে আসেন। নতুন এই নিয়মের কারণে একটি শাখায়ই এই দুই হাজার গ্রাহককে ফোনকল বাবদ দুই থেকে তিন হাজার টাকা মোবাইল অপারেটর কম্পানিকে দিতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে সিএসএবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সত্যতা যাচাইয়ের জন্য এই নিয়ম অনুসরণ করছে কুরিয়ার সার্ভিসগুলো। তবে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে এই কাজটি সম্পন্ন করার জন্য বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কম বয়সী শিক্ষার্থীসহ অনেক গ্রাহক আছে, যারা এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ আদান-প্রদান করে থাকে। তাদের সবার পরিচয়পত্র নেই। এ কারণে এখনো পরিচয়পত্রের বিষয়টি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান এসএ পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুস সালাম।
অনেক দেশেই খোয়া যাওয়া পণ্য বা অর্থের সমপরিমাণ জরিমানার বিধান রয়েছে। ডিএচএল, ফিডেঙ্সহ আন্তর্জাতিকমানের কুরিয়ার সার্ভিস কম্পানিগুলো সুনাম রক্ষায় গ্রাহদের বীমাকৃত অর্থ দিয়ে থাকে। বাংলাদেশে এ ধরনের কোনো নিয়ম নেই। এ ব্যাপারে সিএসএবির সভাপতি ও রেইনবো কুরিয়ার সার্ভিস লিমিটেডের চেয়ারম্যান তানভিরুল হক বলেন, 'আমাদের দেশে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহককে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কোনো বিধান নেই'। তবে প্রতিষ্ঠানের সুনাম বজায় রাখতে দেশের কুরিয়ার সার্ভিস কম্পানিগুলো গ্রাহকের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে এ সমস্যার সুরাহা করে আসছে বলে তিনি দাবি করেন।
 Source: http://www.kalerkantho.com 
২৬ জুন ২০১১