Showing posts with label Life Security. Show all posts
Showing posts with label Life Security. Show all posts

Wednesday, November 28, 2012

বেসরকারী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান

বেসরকারী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান

 

এলিট ফোর্স (এলিট সিকিউরিটি সার্ভিস)
এলিট টাওয়ার, বাড়ী-৩ রোড-৬/এ
ব্লক-জে, বারিধারা, ঢাকা-১২১২।
ফোন: ৮৮২৬৬৩৬, ৮৮২৬৬৮৬, ৮৮২৬৬৮৬
ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৮৮২৬৫৭৫

সিকিউরেক্স (প্রাঃ) লিমিটেড
বাড়ী-৭,  রোড-৭, ব্লক-জে
বারিধারা, ঢাকা-১২১২। বাংলাদেশ।
ফোন: ৮৮২১২৩০,৮৮২৭৪৬৮,৮৮১৫২৪০
সেলস এন্ড মার্কেটিং : ৮৮১৫০৬৭ ,০১৫৫২৫৭১০৮৭
সিআরএস : ৯৮৮০৮১৪  
এটিএম সার্ভিস : ৯৮৯৪৬২১
টেকনিক্যাল ডিভিশন : ৮৭৫৩৪১৪,৮৭৫৩৪১৬
Email: tq@optimaxbd.net  

সেন্ট্রি সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড
বাড়ী-১১(নিচতলা),  রোড-১,
ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৫। বাংলাদেশ।
ফোন: ৯৬৬১৫৭৭, ৯৬৬৮৮০০, ৯৬৬২২৪৬, ৯৬৬২২৪৭,
৯৬৬০৯১৯, ৯৬৬০৯০১, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৮৬২৫৪৭০

আইসিইএল প্রাইভেট লিমিটেড
বাড়ী-১৩/১,  রোড-৪,
ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৫। বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮-০২-৯৬৬০৮২৩, +৮৮-০২-৯৬৬৯৭১৫
ফ্যাক্স: +৮৮-০২-৯৬৬৪০৭৭


Thursday, November 8, 2012

রেইনবো ফুডের গুণাগুণ ও রাসায়ণিকযুক্ত ফলমূল , শাকসবজি ও মাছ থেকে বাঁচার উপায়

রেইনবো ফুডের গুণাগুণ ও 
রাসায়ণিকযুক্ত ফলমূল , শাকসবজি ও মাছ থেকে বাঁচার উপায়

রংধনুর সাতটি রঙের মত ফলমূল ও শাকসবজিকে সাতটি রঙে ভাগ করা যায়। ফলমূল ও শাকসবজিতে বিদ্যমান রঞ্জক পদার্থের কারণেই  ফলমূল ও শাকসবজি রঙিন হয়ে থাকে । প্রডিজ ফর বেটার হেল্থ ফাউন্ডেশন (পিবিএইচ) এর তথ্য অনুসারে এই রঞ্জক পদার্থগুলো এন্টিঅক্সিডেন্ট ( রোগ প্রতিরোধক) হিসেবে কাজ করে, আমাদের দেহের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ সরবরাহ করে থাকে এবং ক্যান্সারের  হাত থেকে রক্ষা করতেও সাহায্য করে । এই  সাতটি রঙের ফলমূল ও শাকসবজিকে একত্রে রেইনবো ফুড বলে । রেইনবো ফুড আমাদের সুস্থ স্বাভাবিক জীবনের জন্য অত্যাবশক। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অল্প করে হলেও সাতটি রঙের ফলমূল ও শাকসবজি রাখা উচিত। কখনই একটি  রঙের ফলমূল ও শাকসবজি উচিত না কারণ এতে দেহের চাহিদা পূরণ হয় না, ভিটামিন ও মিনারেলের অভাবটা থেকেই যায়।

এবার চলুন জেনে নিই প্রতিটি রঙিন ফলমূল ও শাকসবজির স্বকীয় গুণাগুণ:

লাল ফলমূল ও শাকসবজি:

ফলমূল ও শাকসবজি মূলত উদ্ভিদে উপস্থিত প্রাকৃতিক রঞ্জক পদার্থ লাইকোপেন ও এ্যান্থেসায়ানিনের কারণে লাল হয়ে থাকে । টমেটো, তরমুজ, লাল পেয়ারা, লাল পেঁয়াজ, লাল শাকে লাইকোপেন বিদ্যমান যা বিভিন্ন প্রকার ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে বিশেষ করে প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় । স্ট্রবেরী,রাস্পবেরী, ক্র্যানবেরী ,লাল আঙুরে থাকে এ্যান্থেসায়ানিন যা অত্যন্ত শক্তিশালী এন্টিঅক্রিডেন্ট হিসেবে কাঝ করে, আমাদের দেহের কোষগুলোকে রক্ষা করে ও হৃদরোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।লাল রঙ হলো শক্তি, কর্মোদ্যোগ ও পরিবর্তনের প্রতীক। যখন আমরা বিষণ্ণতায় আচ্ছন্ন থাকি, দুঃসহ সময় কাটাই তখন খাবার তালিকায় লাল ফলমূল ও শাকসবজির পরিমাণ বাড়ানো উচিত, কারণ লাল ফলমূল ও শাকসবজি অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির কাজ সম্পাদনে সাহায্য করে। আর যারা রক্তশূণ্যতায় ভুগছেন এবং ঠান্ডায় সংবেদনশীল তাদের জন্য  লাল ফলমূল ও শাকসবজি অপূরণীয়।
হলুদ ও কমলা ফলমূল ও শাকসবজি:
হলুদ ও কমলা ফলমূল ও শাকসবজিতে থাকে বিটা ক্যারোটিন নামক রঞ্জক পদার্থ যা চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়, চামড়ায় বলিরেখা পড়া রোধ করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ক্যান্সার ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যারা ক্যারোটিনয়েড সমৃদ্ধ ফলমূল ও শাকসবজি খেয়ে থাকেন তাদের বয়স সমন্ধীয় ও চোখের সমস্যা ৪৩% কমে যায় এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি ৩৬% কমে যায়।
কমলা রঙ হলো আনন্দ ও সুখের প্রতীক । কমলা রঙের ফলমূল ও শাকসবজি মানসিক স্বাস্থ্যেও প্রভাব ফেলে যেমন মানসিক প্রশান্তি আনে। অন্যদিকে হলুদ হলো মনের ও বুদ্ধির রঙ। হলুদ ফলমূল ও শাকসবজি এর মাধ্যমে আমরা বিষণ্ণতা, বাজে চিন্তা ও অভ্যাস থেকে মুক্তি পেতে পারি।নিজেকে নিয়ন্ত্রণেও হলুদ ফলমূল ও শাকসবজি ব্যাপক ভূমিকা রাখে।
সবুজ ফলমূল ও শাকসবজি:



সবুজ ফলমূল ও শাকসবজিতে থাকে ক্লোরোফিল, কিছু কিছু ক্ষেত্রে থাকে লুটেইন( মটর, কাঁচা মরিচ,শসা ইত্যাদি)। সবুজ ফলমূল ও শাকসবজি এর গুণাগুণ আমরা ছোটবেলায় সবাই অনেক পড়েছি- সবুজ ফলমূল ও শাকসবজিতে  প্রচুর ভিটামিন আছে, এটি রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে । যারা আমার মত পিসিতে বেশিক্ষণ থাকেন বা ক্যামেরায় কাজ করেন তাদের উচিত লুটেইন সমৃদ্ধ ফলমূল ও শাকসবজি বেশি করে খাওয়া, এতে চোখের দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখা যায়। সবুজ  রঙের ফলমূল ও শাকসবজি দেহের ওজন কমিয়ে দেহকে সুস্থ রাখে।

বেগুনী, আসমানী ও নীল ফলমূল ও শাকসবজি:


বেগুনী, আসমানী ও নীল ফলমূল ও শাকসবজিতে থাকে এ্যান্থেসায়ানিন।আমাদের দেশে বেগুনী, আসমানী ও নীল ফলমূল ও শাকসবজি খুব কমই আছে । চিত্রের ফলমূল ও শাকসবজির মাঝে শুধুমাত্র বেগুন আমাদের দেশে পাওয়া যায়।বেগুনী, আসমানী ও নীল ফলমূল ও শাকসবজি চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।

সাদা ফলমূল ও শাকসবজি:


সাদা ফলমূল ও শাকসবজিতে থাকে এ্যান্থজেন্তেনি । সাদা ফলমূল ও শাকসবজি কোলস্টেরল ও রক্তচাপ কমায়, স্টোমাক ক্যান্সার ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
এতক্ষণ তো জানলাম ফলমূল ও শাকসবজির নানা গুণাগুণ, কিন্তু আমাদের দেশের যা অবস্থা তাতে রাসায়নিকমুক্ত ফলমূল ও শাকসবজি পাওয়ার কোন উপায় নেই।ফলে ফলমূল ও শাকসবজি খেয়ে উপকৃত হওয়ার পরিবর্তে আমরা অসুস্ত হয়ে পড়ছি|অধিক ফলন পেতে ব্যবহার করা হচ্ছে অধিক রাসায়নিক সার।ফলমূল পাকানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ইথিলিন ও নানা ধরনের রাসায়নিক স্প্রে।মাছে ব্যবহার করা হচ্ছে ফরমালিন।

খাদ্যদ্রব্যে ফরমালিনের উপস্তিতি নানা পরীক্ষার মাধ্যমে করা যায় যেমন-
১। ফরমালডিহাইডের দ্রবণের সঙ্গে ২ সিসি ফিনাইল হাইড্রোজাইন হাইড্রোকোরাইড (১%) এবং ১ সিসি ৫% পটাসিয়াম ফেরিসায়ানাড দিয়ে তারপর ৫ সিসি ঘনীভূত হাইড্রোকোরিক অ্যাসিড মেশালে পুরো দ্রবণ গাঢ় গোলাপী রঙ হয়ে থাকে। একে বলা হয় সেরিভারস্ টেস্ট।
২। ফরমালডিহাইডের হালকা দ্রবণ যেমন মাছে ফরমালিন দেয়া আছে তা ধুয়ে তার পানিতে ১ সিসি সোডিয়াম নাইট্রোপ্রোসাইড মেশালে গাঢ় সবুজ নীল রঙ ধারণ করে। এতে ফরমালডিহাইড তথা ফরমালিনের অস্তিত্ব প্রমাণ করে। এ সমস্ত কেমিক্যাল এবং রি-এজেন্ট পাওয়া খুব কঠিন এবং দামও অনেক বেশী।
তাই সহজ এবং সাধারণ একটি পদ্ধতি বের করা যায়। যেমন সন্দেহযুক্ত ফরমালিন মাছ ধুয়ে পানিতে ৩% (ভলিউম) হাইড্রোজেন পারক্সাইড মেশালে ফরমালডিহাইড অক্সিডাইজড হয়ে ফরমিক অ্যাসিডে রূপান্তর হয়। ফরমিক এসিড প্রমাণের জন্য সে পানিতে অল্প মারকিউরিক কোরাইড মেশালে সাদা রঙের তলানি পড়বে। তাতেই প্রমাণ হবে ফরমিক অ্যাসিড তথা ফরমালডিহাইড তথা ফরমালিন।
এখন কথা হচ্ছে খাদ্যদ্রব্যে ফরমালনিরে উপস্তিতি পরীক্ষার উপকরণগুলো সহজলভ্য নয় । আর সবচেয়ে বড় কথা, কেনার সময় যদি সাথে করে এসব নিয়ে যেতে হয় তাহলে হয়তো কেনাটাই ছেড়ে দিতে হবে।

তাই আমরা জনসাধারণ যাতে সহজ উপায়ে চিনতে পারি বা থেকে কিছুটা রক্ষা পাই সেই চেষ্টাই করি-
১. ফরমালিনবিহীন মাছের ফুলকা উজ্জ্বল লাল র্বণ , চোখ ও আঁইশ উজ্জ্বল হয়,শরীরে আঁশটে গন্ধ পাওয়া যায়,মাছের দেহ নরম হয় ।অন্যদিকে ফরমালিনযুক্ত মাছের ফুলকা ধূসর, চোখ ঘোলাটে ও ফরমালনিরে গন্ধ পাওয়া যায় হয়,আঁইশ তুলনামূলক ধূসর র্বণরে হয় ,শরীরে আঁশটে গন্ধ কম পাওয়া যায়, দেহ তুলনামূলক শক্ত হয় ।
২.পরীক্ষায় দেখা গেছে পানিতে প্রায় ১ ঘন্টা মাছ ভিজিয়ে রাখলে ফর্মালিনের মাত্রা শতকরা ৬১ ভাগ কমে যায়।
৩. লবনাক্ত পানিতে ফর্মালিন দেওয়া মাছ ১ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখলে শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ ফর্মালিনের মাত্রা কমে যায়।
 ৪.প্রথমে চাল ধোয়া পানিতে ও পরে সাধারন পানিতে ফর্মালিন যুক্ত মাছ ধুলে শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ ফর্মালিন দূর হয়।
 ৫.সবচাইতে ভাল পদ্ধতি হল ভিনেগার ও পানির মিশ্রনে (পানিতে ১০ % আয়তন অনুযায়ী) ১৫ মিনিট মাছ ভিজিয়ে রাখলে শতকরা প্রায় ১০০ ভাগ ফর্মালিনই দূর হয়।
৬.যে ধরনের রাসায়নিক দেয়া হোক না কেন যদি একটু আমরা একটু সচেতন হই তাহলে ফল খাওয়া সম্ভব। আমাদের যা করতে হবে তা হল- খাওয়ার আগে এক ঘণ্টা বা তার চেয়ে একটু বেশী সময় ফলগুলো পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে।
৭.লিচু কাঁচা অবস্থায় সবুজ। পাকার পর হয় ইটা লাল। এখন গাছে রাসায়নিক স্প্রে করে যার ফলে লিচু গাঁড় মেজেনটা রং ধারন করে তা বড়ই মনমুগ্ধকর। কিন্তু  চকচক করলে সোনা হয় না সেটা মনে রেখে কখনোই গাঁড় মেজেনটা রঙ্গের লিচু কেনা যাবে না।
৮.সবজি রান্না করার আগে গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে ১০ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন।
৯.বেগুনে এক ধরনের রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহার করা হয় ।এই রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহার ক্ষতিকর না যদি নিয়মানুসারে দেয়া হয়। কিন্তু আমাদের দেশের কৃষকেরা এ ব্যাপারে অজ্ঞ।তারা এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না।প্রতিটি কীটনাশকের ক্রিয়া একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত থাকে।যেমন- একটি কীটনাশকের সেলফ লাইফ বা জীবন সীমা ৭দিন, তার মানে কীটনাশকটা ব্যবহারের ৭দিন পর্যন্ত সক্রিয় থাকবে, যা কীটপতঙ্গের জন্য ক্ষতিকর।তাই কৃষকদের উচিত কীটনাশক ব্যবহারের অন্তত ৭দিন পর ফলন তোলা।কিন্তু তারা তা না করে ২-১ দিনের মাঝেই ফলন তোলেন।ফলে কীটনাশকের ক্রিয়া ক্ষমতা  থেকে যায়, যার ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে আমাদের উপর। তাই বাজারে সতেজ, উজ্জ্বল বেগুন না কিনে কিছুটা অনুজ্জ্বল, পোকায় কিছুটা আক্রান্ত এমন বেগুন কেনাই ভালো।

তথ্যসূত্র:
ফরমালিন টেস্ট- ১. সাইন্স ল্যাবরেটরী কর্তৃক  প্রচারিত লিফলেট
২.ডাঃ এ বি এম আবদুল্লাহ[বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়] 

লিখেছেন: সাবরিনা সুখী, http://www.techspate.com

Thursday, November 1, 2012

সমুদ্র সৈকতে গোসল করতে আসা পর্যটকদের জীবনের নিরাপত্তা দিতে কক্সবাজরে লাইফ সেভিং এন্ড সার্ফিং

সমুদ্র সৈকতে গোসল করতে আসা পর্যটকদের জীবনের নিরাপত্তা 
দিতে কক্সবাজরে লাইফ সেভিং এন্ড সার্ফিং

সমুদ্র সৈকতে গোসল করতে গিয়ে আর যেন কেউ অকালে প্রাণ না হারায় তাই কক্সবাজরে ইয়াসির লাইফ গার্ড, রবি লাইফ গার্ড ও কক্সবাজর লাইফ সেভিং এন্ড সার্ফিং কাব প্রতিনিয়ত তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। আর এই লাইফ গার্ডদের আরো দ ও অভিজ্ঞ করতে “সমুদ্র হউক নিরাপদ” শিরোনামের এক প্রশিনের আয়োজন করেছে একটি বিদেশী সংস্থা। অক্টোবর মাসের ৯ তারিখ থেকে শুরু হওয়া এই প্রশিন হচ্ছে কয়েকটি ব্যাচে। একটি ব্যাচে ১২ জন অংশগ্রহনকারীকে ৫ দিন প্রশিন করানো হয়। কলাতলীস্থ প্যাসিফিক বীচ ক্যাফেতে অনুষ্ঠীত এই প্রশিটি ইতমধ্যে ৪ টি ব্যাচ সফল ভাবে শেষ করেছে। রয়েল ন্যাশনাল লাইফ বোট ইন্সটিটিউড (আরএনএলই) নামের এক বিদেশী সংস্থার সহযোগিতায় প্রশিনটি করাচ্ছে কক্সবাজর লাইফ সেভিং এন্ড সার্ফিং কাব। এই সংস্থাটির একটি বড় সফলতা হলো তারা বাংলাদেশ কোষ্ট গার্ডের ১৬ জন সদস্যকে “সমুদ্র হউক নিরাপদ” প্রশিনটি করিয়েছেন। এ প্রশিনের বিভিন্ন বিষয় গুলোর মধ্যে রয়েছে, মানুষ কেন ডুবে যায়, ডুবার কারন, ডুবে যাওয়া মানুষ চিহ্নিত করা, সমুদ্র সম্পর্কে জানা ও সমুদ্র বিপদ সম্পর্কে জানা, গুপ্ত খাল সম্পর্কে জানা সহ আরো অনেক কিছু। প্রশিনটির প্রশিক শাহাদাত হোসেন জানান, এখন আমরা কর্মরত লাইফ গার্ডদের প্রশিনটি বিনামূল্যে করাচ্ছি যেনো তারা সমুদ্র সৈকতে গোসল করতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে পারে। সমুদ্রে গোসল করতে এসে প্রতি বছর অনেক পর্যটক প্রণ হারাচ্ছে। পর্যটকদের জীবনের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য লাইফ গার্ডরা থাকলেও তাদের যথাযথ দতা না থাকায় অনেকে ভেসে যাচ্ছে সগরের গভীরে। “সমুদ্র হউক নিরাপদ” প্রশিনটি করা থাকলে ভেসে যাওয়া মাসুষকে উদ্ধার করা ও বাচাঁনো অনেকটাই সম্ভব হবে বলে মনে করেন প্রশিক শাহাদাত হোসেন।
অন্য প্রশিক রাশেদ আলম বলেন আমরা যাদের প্রশিন দিয়েছি তারা এখন অনেক সচেতন। শুধুমাত্র সাতাঁর জানলেই মানুষ বাচাঁনো সম্ভব না সমুদ্রের শ্রোতে সাতাঁরের আভিজ্ঞতা কোন কাজেই আসেনা। তাই এখানে সাতাঁর ছাড়াও আরো বিভিন্ন কৌশল শেখানো হচ্ছে যেন সাগরে ভেসে যাওয়া মানুষকে খুব সহজেই উদ্ধার করা যায়।

 

Monday, October 1, 2012

জেনে নিন কীভাবে অফলাইন ও অনলাইনে জিডি করবেন

জেনে নিন কীভাবে অফলাইন ও অনলাইনে জিডি করবেন

 

জিডি শব্দটি জেনারেল ডায়েরীর সংক্ষিপ্ত রুপ। প্রতিটি থানায় এবং ফাঁড়িতে একটি ডায়েরীতে ২৪ ঘন্টার খবর রেকর্ড করা হয়। প্রতিদিন সকাল আটটায় ডায়েরী খুলে পরের দিন সকাল আটটায় বন্ধ করা হয়। অর্থাৎ কার্যত এটি কখনই বন্ধ হয় না।

এই ডায়েরীতে থানার বিভিন্ন কার্যক্রম  যেমন আসামী কোর্টে চালান দেয়া, এলাকার বিভিন্ন তথ্য, থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আগমন ও প্রস্থানের তথ্য ইত্যাদি লিপিবদ্ধ থাকে।

সাধারণ মানুষের কাছে জিডির গুরুত্ব
সাধারণ মানুষের কাছে জিডির গুরুত্ব ভিন্ন। কোন থানায় মামলাযোগ্য নয় এমন ঘটনা ঘটলে মানুষ থানায় জিডি করে থাকেন। আবার কাউকে ভয় ভীতি দেখানো হলে বা অন্য কোন কারণে যদি তিনি নিরাপত্তার অভাব বোধ করেন, কিংবা কোন ধরনের অপরাধের আশঙ্কা করেন তাহলেও তিনি জিডি করতে পারেন। জিডি করার পর পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। প্রয়োজনবোধে তদন্ত করা, নিরাপত্তা দেয়া ছাড়াও জিডির বিষয়টি মামলাযোগ্য হলে পুলিশ মামলা করে থাকে। আইনগত সহায়তা পাওয়ার জন্য জিডি অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনেক সময় আদালতেও জিডিকে সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

জিডি করা
থানার ডিউটি অফিসার জিডি নথিভুক্ত করেন। এক্ষেত্রে তিনি একটি ডায়েরীতে জিডির নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য লিপিবদ্ধ করেন। জিডির দুটি কপি করা হয়। একটি থানায় সংরক্ষণ করা হয় এবং অন্যটিতে জিডির নম্বর লিখে প্রয়োজনীয় সাক্ষর ও সীলমোহর দেয়া হয়। এটি ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করতে হয়।
অভিযোগকারী নিজে জিডি লিখতে পারেন, আবার প্রয়োজনে থানার কর্মকর্তাও লিখে দিয়ে থাকেন।
প্রতিটি জিডির বিপরীতে একটি নম্বর দেয়া হয়, ফলে কোন অবৈধ প্রক্রিয়া মাধ্যমে কেউ আগের তারিখ দেখিয়ে জিডি করতে পারেন না।

অনলাইন জিডি
আবার পুলিশের তাৎক্ষণিক সাড়া দেবার প্রয়োজন নেই এমন ক্ষেত্রে যেমন পাসপোর্ট হারানো, বাখাটে বা মাদক সেবীদের সম্পর্কে তথ্য প্রদান বা এজাতীয় ক্ষেত্রে অনলাইনে জিডি করা যেতে পারেন বা সরাসরি পুলিশ সদরদপ্তরে ফ্যাক্স বা ই-মেইল করতে পারেন। এ পদ্ধতিতে দেশের বাইরে থেকেও জিডি করা সম্ভব। এক্ষেত্রে অনলাইনে জিডি করার পর ই-মেইল বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জিডি নম্বরটি জিডিকারীকে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

হারানো বিষয়ের জিডি
মোবাইল ফোনের সিম, পরীক্ষার সার্টিফিকেট, জমির দলিল প্রভৃতি হারিয়ে গেলে ঐ সব কাগজপত্র পুনরায় তুলতে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হারানো সংবাদের জিডি চেয়ে থাকে, তাই ঐসব ক্ষেত্রে হারানো সংবাদের জিডি করে সেই জিডি নম্বরসহ কর্তৃপক্ষরে কাছে আবেদন করতে হয়।

বাংলাদেশ পুলিশের আরও কিছু সেবা সম্পর্কে জানুন

জিডির নমুনা
বরাবর
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
………. থানা
ঢাকা।
বিষয়: এসএসসি সার্টিফিকেট হারানো সংবাদ ডায়েরীভুক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন।
মহোদয়,
আমি নিম্ন সাক্ষরকারী আপনার থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে জানাচ্ছি যে, আমার এসএসসি পরীক্ষার সার্টিফিকেট আজ সকাল আনুমানিক ১১ টার সময় ঢাকা কলেজের পাশের রাস্তার একটি ফটোকপি করার দোকান থেকে হারিয়ে গেছে।
এমতাবস্থায় হারানোর বিষয়টি ডায়েরীভুক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
সার্টিফিকেটের বিবরণ:
পরীক্ষার নাম…শিক্ষাবর্ষ…রেজিষ্ট্রেশন নং… রোল নং…
দাখিলকারী,
….
ঠিকানা…
ফোন…


লিখেছেনঃ শাহীন শিমুল।

অনলাইনে জিডি 

(আইনি সেবা যেন হিতে বিপরীত না হয়)

 

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সর্বাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির নতুন একটি পরিসেবা চালু করেছে রাজধানীতে। ‘ও পুলিশ, ও বন্ধু আমার’ শীর্ষক একটি প্রকল্পের আওতায় এখন থেকে ঘরে বসেই অনলাইনে জিডি বা সাধারণ ডায়েরি করা যাবে ঢাকার থানাগুলোতে। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই, সহজে কেউ থানা-পুলিশের দ্বারস্থ হতে চান না। তাছাড়াও অনেক ক্ষেত্রে সময় এবং দূরত্বও একটি ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় পুলিশের সাহায্য প্রাপ্তির ক্ষেত্রে। সেক্ষেত্রে অনলাইনে থানা-পুলিশের পরিসেবা পাওয়ার বিষয়টা নিঃসন্দেহে আধুনিক, ঝক্কি-ঝামেলামুক্তÑ সর্বোপরি ‘মেঘ না চাইতেই জল’-এর মতো ঘরে বসেই সেবাপ্রাপ্তি। দুই মাস আগে পরীক্ষামূলকভাবে উত্তরা থানায় এ কার্যক্রম চালু হলেও ইতিবাচক অভিজ্ঞতার আলোকে ডিএমপি এ সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে আপাতত পাসপোর্ট, সনদপত্র, পরিচয়পত্র, চেকবই হারানোসহ ছোটখাটো ছিনতাই, গৃহকর্মী-দারোয়ানের পালিয়ে যাওয়া, ভাড়াটে সংক্রান্ত তথ্য, প্রবাসীদের সমস্যা ইত্যাদি সাত ধরনের বিষয়ে জিডি করা যাবে বলে বলা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ এও বলেছে, খুব জরুরি নয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশি সহায়তার প্রয়োজন নেইÑ আপাতত অনলাইনে এ ধরনের বিষয়েই কেবল জিডি করা যাবে। তাৎক্ষণিক পুলিশি সহায়তার প্রয়োজন হলে সরাসরি যোগাযোগ করতে হবে ফোনে অথবা সশরীরে থানার সঙ্গে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর প্রতিটি থানায় দৈনিক গড়ে প্রায় দেড় হাজার সাধারণ ডায়েরি (জিডি) অ্যান্ট্রি হয়। এর মধ্যে ব্যস্ততম থানাগুলোতে কোনো কোনোদিন সাধারণ ডায়েরির সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়ে যায়। অনলাইন পদ্ধতি চালু হলেও রাজধানীর থানাগুলোতে হাতে লেখা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) পদ্ধতিও চালু থাকবে। সূত্র জানায়, প্রতিদিন সাধারণ মানুষ হারানো সংক্রান্ত কারণ ছাড়াও বিভিন্ন অভিযোগে থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি করে থাকেন। এ ছাড়া পুলিশের ডিউটি বণ্টন ও অস্ত্র জমা দেয়া-নেয়া সংক্রান্ত কাজেও থানায় জিডি অ্যান্ট্রি হয়ে থাকে। এসব সাধারণ কাজে হাতে লেখা জিডির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। জিডি এবং মামলার মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা না থাকায় আইনগত জটিলতা বাড়তে পারে এ ব্যাপারে ধানমন্ডি থানার ওসি শাহ আলম বিপিএম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে তুললে পারলে তেমন কোনো অসুবিধা হবে না। সাধারণ ডায়েরির তদন্তভার কোন কর্মকর্তাকে দেয়া হবে সে বিষয়টি মূলত প্রতিদিন রাতে নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। অনলাইনে জিডির তদন্তের বিষয়টিও রাতে নির্ধারণ করা হবে। রমনা জোনের ডিসি কৃষ্ণচন্দ্র রায় জানান, যেসব থানায় কম্পিউটার নেই সেসব থানায় জোনাল উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ও সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) তাদের কম্পিউটারে সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করছেন। কেউ কেউ মন্তব্য করেন, অনলাইনে সাধারণ মানুষের জন্য এ ব্যবস্থা উন্মুক্ত করে দেয়ায় সাধারণ ডায়েরির যথেচ্ছ ব্যবহার হবে। আর তদন্ত করতে গিয়ে বাড়তি ঝামেলায় পড়বে পুলিশ। তবে এ প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার এ কে এম শহীদুল হক জানান, প্রথমদিকে কিছুটা সমস্যা হলেও ধীরে ধীরে তা কেটে যাবে। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আইনি সেবা পৌঁছে দিতে এ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ডিএমপি হেড কোয়ার্টার ডিসি হাবিবুর রহমান জানান, মূলত ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা তো কেবল কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং নথিপত্রসহ যে কোনো কাজ দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করা এবং ব্যবস্থা গ্রহণই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। অনলাইনে জিডির ক্ষেত্রে ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার সঙ্গে কাজ করতে হবে প্রতিটি থানা-পুলিশকে। একই সঙ্গে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে কেউ যেন কাউকে ব্ল্যাকমেইল অথবা সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেনস্তা ও হয়রানি করতে না পারেÑ সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। যে ব্যক্তি জিডি করবে অবশ্যই তার পূর্ণ নাম-ঠিকানা তথা বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানাসহ প্রয়োজনে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিতে হবে। মোট কথা, এই আইনি অবাধ সুযোগ যেন হিতে বিপরীত না হয়ে দাঁড়ায়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এই তথ্যপ্রযুক্তি রাজধানীর সব থানাসহ দেশের সব থানা ও পুলিশি কার্যালয়কে অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্কের আওতায় আনা গেলে সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিসহ উপকৃত হবে দেশবাসী। তবে অনলাইন জিডি করতে হলে ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের ওয়েবসাইট http://www.dmp.gov.bd-এ প্রবেশ করলে Citizen Help Request নামে একটি লিংক পাওয়া যাবে। লিংকটিতে ক্লিক করে অনলাইনে জিডি সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করার তালিকা আসবে। যে ধরনের তথ্য দিয়ে জিডি করতে চান তা নির্বাচন করতে হবে। এবার তথ্য পূরণ করার খালি বক্স আসবে। তথ্যাবলি যথাযথ পূরণ করে ঝঁনসরঃ বাটনটি চাপলে সংশ্লিষ্ট থানায় পৌঁছে যাবে আপনার তথ্য। আপনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি শনাক্তকরণ নাম্বার পাবেন। নাম্বারটি সংগ্রহ করুন। আপনার সাধারণ ডায়েরি বা জিডির কপি পেতে পরবর্তী সময়ে নাম্বারটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করুন। চাইলে আপনার কোনো মতামত নিয়ে সরাসরি পুলিশের bangladesh@polic.gov.bd ঠিকানায় মেইলও পাঠাতে পারবেন। আর ফ্যাক্স করতে পারবেন ৮৮০-২-৯৫৫৮৮৮ নাম্বারে। আর জরুরি প্রয়োজনে মোবাইল করতে পারেন ০১৭১৩৩৭৩১০৯। 

Source: http://www.somewhereinblog.net

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১০

 

Related Link:

থানায় জিডি করতে হয়রানিঃ বিকল্প নয়, কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে 

থানায় জিডি করতে যেয়ে কে কে বিপদে পড়েন নাই হাত তোলেন?

Sunday, June 24, 2012

যানযট থেকে মুক্তি এবং সড়ক দূর্ঘটনা থেকে বাঁচার উপায় আনুসাঙ্গিক প্রসঙ্গ

যানযট থেকে মুক্তি এবং 

সড়ক দূর্ঘটনা থেকে বাঁচার উপায় আনুসাঙ্গিক প্রসঙ্গ

- বাবুল হোসাইন

 

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

যানযট থেকে মুক্তির উপায়:
১. আইনের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। আইন আমাদেরকে সমানভাবে মানতে হবে।
২. আইনের প্রয়োগ থাকতে হবে এবং আইন সবারজন্য সমান থাকতে হবে।
৩. আইন অমান্যকারীর শাস্তি ও জারমানা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য আরও বাস্তবসম্মত আইন ও তার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
৫. ড্রাইভারদের ধৈয্য থাকতে হবে। আগে যাব আগে যাব চলার মন মানসিকতা ছাড়তে হবে। আপনি চলাচল করুন ও অন্য গাড়ী চলাচল করার সুযোগ দিন ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন।
৬. ট্রাফিক সার্জেন্ট নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা।
৭. রাস্তার পাশে পার্কিং করা যাবে না।
৮. বড় মার্কেট, মাল্টিস্টোরেট বির্ল্ডিংগুলোর যাথেষ্ট পার্কিং স্পেস গড়ে তুলতে হবে।
৯. আইন সবার জন্য সমান থাকতে হবে।
১০. আইন না মানলে তাকে জরিমানা ও জেল দিতে হবে।
১১. ঢাকার ভিতরে পূর্ব ও পশ্চিমে রাস্তা বাড়াতে হবে বা লিংক রোড বাড়াতে হবে।
১২. আন্ডারপাস ও ফ্লাইওভার গড়ে তুলতে হবে।
১৩. রাস্তার কোথাও সিটি কর্পোরেশনের ময়লার কন্টেইনার রাখা যাবে না।
১৪. মেইন রাস্তার পাশে স্কুল কলেজ গড়ে তোলা যাবে না।
১৫. আবাসিক এলাকায় ব্যস্ত অফিস গড়ে তোলা যাবে না।
১৬. রাস্তার পাশে নির্মাণ সামগ্রী রাখা যাবে না।
১৭. রাস্তার সংস্কার কাজ ও মার্কিং করে রাস্তা সুন্দর রাখতে হবে।
১৮. রাস্তার সিগনাল বাতির জন্য স্বনির্ভর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
১৯. ফুটপাথ দখলমুক্ত করা করতে হবে।
২০. বামপাশের লেন বন্ধ করা যাবে না, বন্ধ করলে জরিমানা ও শাস্তি পেতে হবে।
২১. রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় লুকিং গ্লাস, পিছনে ব্রেক লাইট ইন্ডিকেটর লাইট, ও গাড়ির নাম্বার প্লেট স্পষ্ট থাকতে হবে। গাড়িতে এড দেয়া চলবে না।
২২. বাস নির্ধারিত স্টপেজে থামবে ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ছেড়ে যাবে। বাম পাশ ঘেষে যাত্রী উঠানামা করতে হবে।
২৩. সাধারণ জনগণ ফুটপাথ, ফুট ওভারব্রীজ, জেব্রা ক্রসিং, আন্ডারপাস ব্যবহার করুন।
২৪. সি.এন.জি ষ্টেশনগুলোর দ্রুত সার্ভিস দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
ক. গ্যাসের চাপ যাতে কম না থাকে।
খ. পাঁচ ঘন্টা বন্ধ থাকার আইন শিথিল করা।
২৫. ঢাকার শহরতলী বা উপশহরস্থাপন করে শিল্পস্থাপনা, গার্মেন্টস শিল্প স্থানান্তর করা।
২৬. ঢাকা শহরের বাহিরে রেল নিয়ে যাওয়া। অথবা আন্ডারপাস বা ফ্লাইওভার স্থাপন করা যাতে বাস লাইন সরা সরি ক্রস না কারে।
 

সড়ক দূর্ঘটনা থেকে বাঁচার জন্য
সবার প্রতি পরামর্শ :
১. ড্রাইভার ভাইদের ধৈর্য্য থাকতে হবে।
২. ড্রাইভারদের অত্যধিক আত্মবিশ্বাস কমাতে হবে।
৩. আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন।
৪. নেশা জাতিয় দ্রব্য ব্যবহার করবেন না।
৫. আগে যাব আগে যাব চলার মন মানসিকতা ছাড়তে হবে।
৬. চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ব্যবহার করবেন না ও চোখে ঘুম নিয়ে গাড়ি চালাবেন না।
৭. অস্থির মন নিয়ে গাড়ি চলাবেন না।
৮. একটানা ৫/৬ ঘন্টা গাড়ী চালনার পর বিশ্রাম নিন।
৯. আন্তজেলা গাড়ী চালনার সময় নির্দিষ্ট দূরত্ব পার হওয়ার পরপর বিশ্রাম নিন।
১০. গাড়ী চালনাকালে সময়ের চাইতে জীবনের মূল্য দিন।
১১. রোড আঁকাবাঁকা ও ভাঙ্গাচোরা ও রোড সাইন দেখে গাড়ি ড্রাইভ করুন।
১২. সাধারণের গাড়ি চালানোর সময় মাথা ঠান্ডা করে গাড়ি চালান।
১৩. গাড়ী ওভার টেকিং করার সময় খুব সতর্কতার সাথে ওভারটেকিং করুন।
১৪. গাড়ি রাস্তায় চালনোর পূর্বে আপনার গাড়ির ফিটনেস দেখে নিন। যেমন- ব্রেক, টায়ার এবং টায়ারের হাওয়া, ইঞ্জিনের মবিল, পানি, ব্রেক অয়েল, গিয়ার, অয়েল ভাল করে পরীক্ষা করে নিন।
১৫. রাস্তায় গাড়ি চানানোর সময় আপনার গাড়ির লুকিং গ্লাস, হেড লাইট, ব্রেক লাইট, ইন্ডিকেটর লাইট চেক করে নিবেন। আপনার লাইসেন্স, গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজ সাথে নিন।
১৬. রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় রাস্তার সিগনাল বাতি, জরুরী প্রতিক, সর্বোচ্চ ও সর্বনি¤œ গতিসীমা মেনে গাড়ি চালাবেন।
১৭. রাস্তায় কম্পিটিশন করে গড়ি চালাবেন না।
১৮. আপনি চলাচল করুন ও অন্য গাড়ী চলাচল করার সুযোগ দিন ।
১৯. বামপাশ ঘেষে যাত্রী উঠানামা করানোর সময় ইন্ডিকেটর বাতি ব্যবহার করুন।
২০. জেব্রা ক্রসিং এর পাশে সাধারণ যাতায়তের জন্য গাড়ী থামিয়ে রাস্তা পারাপরের সুযোগ দিন।
২১. প্রতি দুই থেকে তিন মাস পর পর ভাল কোন ওয়ার্কশপে আপনার গাড়ী পরীক্ষা করিয়ে নিন।


গাড়ীর মালিকদের প্রতি পরামর্শ

১. গাড়ীর মালিক হওয়ার সাথে সাথে রাস্তায় চলাচলের নিয়ম কানুন ভালভাবে জেনে নিন।
২. আপনার ড্রাইভারদেরকে কত ঘন্টা কাজ করাচ্ছেন তা হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করুন।
৩. আপনার ড্রাইভারদেরকে কত বেতন দিচ্ছেন এবং উৎসব ভাতা দিচ্ছেন কিনা?
৪. ওভারটাইম ভাতা দিন। সেই সাথে সাপ্তাহিক ছুটি দিন।
৫. আপনার ড্রাইভারের প্রায়োজনের দিকে নজর রাখুন।
৬. ড্রাইভরদের প্রতি সদব্যবহার করুন ও তাদেরকে প্রাপ্য সম্মান দিন।
৭. আপনার ড্রাইভার রাস্তার নিয়ম কানুন সঠিক ভাবে মানছে কিনা খেয়াল করুন। তার বাজে নেশা আছে কি না সে বিষয়ে নজর রাখুন।
৮. আপনার গাড়ী তিন মাস পরপর বি.আর.টি .এ বা উন্নতমানের ওয়ার্কশপে গাড়ী চেকআপ করাবেন।


রাস্তায় দূর্ঘটনা কেন ও কি কারণে হয়?
১. ড্রাইভারদের ধৈর্য্য না থাকা।
২. ড্রাইভারদের আত্মবিশ্বাস বেশী রকমের থাকা।
৩. রাস্তার স্পিড ব্রেকারের উপর রং না থাকা।
৪. নেশাগ্রস্থ অবস্থায়, চোখে ঘুম, শারীরিক অসুস্থতা, প্রচন্ড টেনশন নিয়ে গাড়ি চালানো।
৫. একটানা ৫/৬ ঘন্টার বেশী গাড়ী চালানো।
৬. আন্তজেলা গাড়ি চালনার সময় নির্দিষ্ট দূরত্ব অন্তর বিরতি না দেওয়া তথা ড্রাইভার এর রেষ্ট না হওয়া।
৭. আন্তজেলা গাড়ি চালনার সময় নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর বিরতির সময় গাড়ির চাকা, পানি ও সাধারণ চেকআপ না দেওয়া।
৮. গাড়ি চালনার সময় একথা ভুলে যাওয়া যে “সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশী”।
৯. গাড়ীর মালিককে ভাবতে হবে- ড্রাইভার ঠিকমত খাওয়া-দাওয়া ও পর্যাপ্ত রেষ্ট নিয়েছে কিনা?
১০. গাড়ীর চলন্ত অবস্থায় গাড়ির স্পিড কত কিলো বেগে চলছে তা খেয়াল না করা।
১১. গাড়ীর মালিক ড্রাইভারকে কত ঘন্টা কাজ করাচ্ছেন?
১২. ড্রাইভারকে জানতে হবে গাড়ী চলন্ত অবস্থায় ধুমপান ও মোবাইলে কথা বলা নিষেধ।
১৩. গাড়ীর মালিক তার গাড়ি উন্নতমানের গেরেজ বা বি.আর.টি কর্তৃক পরীক্ষা করিয়ে নিয়েছে কি না?
১৪. গাড়ীর কাগজপত্র ঠিক করার সময় বি.আর.টি কর্তৃপক্ষ গাড়ী পরীক্ষা না করা বা চেকআপ না করা।
১৫. রোড সাইন রোড সিগনাল বাতি, জরুরী প্রতীক, রোডের গতিসীমা, না মেনে অথবা না জেনে গাড়ি চালানো।
১৬. রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় টায়ার, টায়ারের হাওয়া, লুকিং গ্লাস, হেড লাইট, পিছনের ব্রেক লাইট, ইন্ডিকেটর লাইট, ব্রেক অয়েল, গিয়ার অয়েল, ইঞ্জিন মবিল ও পানি না থাকা বা ব্যবহার না করা।
১৭. রোড আকাবাকা বা রাস্তার ভাঙাচোরা না দেখে গাড়ি চালানো।
১৮. রাস্তায় সাধারণ লোকজন জেব্রাক্রসিং বা ওভারব্রীজ ব্যবহার না করা।
১৯. বাম পাশে ওভারটেকিং করা ও বামপাশ ঘেষে যাত্রি উঠানামা না কারা।
২০. আমরা সাধারণ গাড়ীর যাত্রি চলন্ত অবস্থায় গাড়িতে উঠা।
২১. ষ্টপিজ ছাড়া গাড়ি থামানো ও গাড়ির যাত্রি উঠানামা করা।

রাস্তায় যানজটের কারণ :
১. ড্রাইভারদের ধৈর্য্য না থাকা, লাইন বিহীন বা লাইন ছাড়া গাড়ী চালানো,
২. আইন সবার জন্য সমান নয় বা আমরা সকলে সমানভাবে মানি না।
৩. ট্রাফিক পুলিশ এর অবহেলা ও সেই সাথে সাধারণ জ্ঞান না থাকা ও নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করা।
৪. রাস্তায় সিটি কর্পোরেশনের ময়লার ডিপো থাকা ও রাস্তার পাশে নির্মান সামগ্রী রাখা।
৫. রাস্তা ভাঙা চোরা থাকা ও বামপাশের রাস্তা বন্ধ করে রাখা।
৬. রাস্তার পাশে প্রয়োজনীয় জরুরী প্রতীক না থাকা ও রাস্তায় রোডমার্ক সুন্দর পরিষ্কার না থাকা।
৭. রাস্তায় সিগনাল বাতি না থাকা অথবা নষ্ট থাকা ও বিকল্প হিসাবে সৌর বিদ্যুৎ এর ব্যবস্থা না থাকা।
৮. বহুতল বিল্ডিং এর নিজস্ব পার্কিংস্পেস না থাকায় যত্রতত্র গাড়ী পার্কিং করে রাখা।
৯. ব্যাস্ত রাস্তার পাশে স্কুল কলেজ থাকা।
১০. কাউন্টার বাস এলোপাথারী থামানো ও অনর্থক বিলম্ব করা ।
১১. বাসের জন্য অপেক্ষমান যাত্রিগণ রাস্তার ওপর দায়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করা।
১২. স্বল্প সময়ের জন্য আইনের কড়াকড়ি ও বেশীরভাগ সময়ে আইনের শিথিলতা বিরাজমান থাকা।
১৩. গাড়ির ড্রাইভার ও হেলপার কর্তৃক যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রি উঠানামা করানো।
১৪. রাজপথে ট্রেনিং বিহীন, ড্রাইভিং লাইসেন্স বিহীন ও গন্ডমূর্খ রিক্সাওয়ালাদের নূনতম জ্ঞানশুন্য রিক্সা চালানো।
১৫. গলির মাথায় এলোপাথারী রিক্সার জট, উল্টোপথে যাতায়াত, লাইন বিহীন রিক্সা চালানো।
১৬. ফুটপাথ হকারদের দখলে থাকা এবং রাস্তার উভয় সাইডের ৪০% দোকানদার ও ময়লা আবর্র্জনার দখলে থাকা।
১৭. রাস্তায় সাধারণ লোকজন জেব্রাক্রসিং বা ওভারব্রীজ ব্যবহার না করা।
১৮. সি.এন.জি ফিলিং ষ্টেশনের পাশে গাড়ীর লম্বা লাইন থাকা।
১৯. গাড়ী রাস্তায় চালানোর সময় লোকিং গ্লাস, পিছনে ব্রেক লাইট ও ইন্ডিকেটর লাইট না থাকা বা ব্যবহার না করা।

আমি আশা করি এই কথাগুলো কৃর্তপক্ষ নজরে দিবেন।

সতর্কবাণী
সাবধানে ড্রাইভ করি। সাবধানে রাস্তা পার হই।সাবধানে গাড়িতে উঠি, ফুটপাথ ও ওভারব্রীজ দিয়ে চলাচল করি। আইনকে শ্রদ্ধা করি। দৌড় দিয়ে রাস্তা পার না হই।
 

Source: http://www.somewhereinblog.net

Tuesday, June 12, 2012

ফরমালিন কি এবং এ থেকে বাঁচার উপায়!

ফরমালিন কি এবং এ থেকে বাঁচার উপায়!



ফর্মালিন (-CHO-)n হল ফর্মালডিহাইডের (CH2O) পলিমার। ফর্মালডিহাইড দেখতে সাদা পাউডারের মত। পানিতে সহজেই দ্রবনীয়। শতকরা ৩০-৪০ ভাগ ফর্মালিনের জলীয় দ্রবনকে ফর্মালিন হিসাবে ধরা হয়। ফর্মালিন সাধারনত টেক্সটাইল, প্লাষ্টিক, পেপার, রং, কনস্ট্রাকশন ও মৃতদেহ সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়। ফরমালিনে ফরমালডিহাইড ছাড়াও মিথানল থাকে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। লিভার বা যকৃতে মিথানল এনজাইমের উপস্থিতিতে প্রথমে ফরমালডিহাইড এবং পরে ফরমিক এসিডে রূপান্তরিত হয়। দুটোই শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

► ফরমালিনের ক্ষতিকর দিক:


▀ ফরমালডিহাইড চোখের রেটিনাকে আক্রান্ত করে রেটিনার কোষ ধ্বংস করে। ফলে মানুষ অন্ধ হয়ে যেতে পারে।


▀ তাৎক্ষণিকভাবে ফরমালিন, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড, কারবাইডসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহারের কারণে পেটের পীড়া, হাঁচি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, বদহজম, ডায়রিয়া, আলসার, চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগ হয়ে থাকে।


▀ ধীরে ধীরে এসব রাসায়নিক পদার্থ লিভার, কিডনি, হার্ট, ব্রেন সব কিছুুকে ধ্বংস করে দেয়। লিভার ও কিডনি অকেজো হয়ে যায়। হার্টকে দুর্বল করে দেয়। স্মৃতিশক্তি কমে যায়।


▀ ফরমালিনযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করার ফলে পাকস্থলী, ফুসফুস ও শ্বাসনালিতে ক্যান্সার হতে পারে। অস্থিমজ্জা আক্রান্ত হওয়ার ফলে রক্তশূন্যতাসহ অন্যান্য রক্তের রোগ, এমনকি ব্লাড ক্যান্সারও হতে পারে। এতে মৃত্যু অনিবার্য।


▀ মানবদেহে ফরমালিন ফরমালডিহাইড ফরমিক এসিডে রূপান্তরিত হয়ে রক্তের এসিডিটি বাড়ায় এবং শ্বাস-প্রশ্বাস অস্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করে।


▀ ফরমালিন ও অন্যান্য কেমিক্যাল সামগ্রী সব বয়সী মানুষের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। তবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে। ফরমালিনযুক্ত দুধ, মাছ, ফলমূল এবং বিষাক্ত খাবার খেয়ে দিন দিন শিশুদের শারীরিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে। কিডনি, লিভার ও বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নষ্ট, বিকলাঙ্গতা, এমনকি মরণব্যাধি ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে শিশু-কিশোররা। শিশুদের বুদ্ধিমত্তা দিন দিন কমছে।


▀ গর্ভবতী মেয়েদের ক্ষেত্রেও মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে। সন্তান প্রসবের সময় জটিলতা, বাচ্চার জন্মগত দোষত্রুটি ইত্যাদি দেখা দিতে পারে, প্রতিবন্ধী শিশুর জন্ম হতে পারে।


▀ এ ধরনের খাদ্য খেয়ে অনেকে আগের তুলনায় এখন কিডনি, লিভারের সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগের সমস্যায় ভুগছেন। দেখা যাচ্ছে, কয়েক দিন পরপর একই রোগী ডায়রিয়ায় ভুগছেন, পেটের পীড়া ভালো হচ্ছে না, চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।


► কিভাবে মাছ থেকে ফর্মালিনের দূর করবেন ?


▀ পরীক্ষায় দেখা গেছে পানিতে প্রায় ১ ঘন্টা মাছ ভিজিয়ে রাখলে ফর্মালিনের মাত্রা শতকরা ৬১ ভাগ কমে যায়।

▀ লবনাক্ত পানিতে ফর্মালিন দেওয়া মাছ ১ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখলে শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ ফর্মালিনের মাত্রা কমে যায়।
▀ প্রথমে চাল ধোয়া পানিতে ও পরে সাধারন পানিতে ফর্মালিন যুক্ত মাছ ধুলে শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ ফর্মালিন দূর হয়।
▀ সবচাইতে ভাল পদ্ধতি হল ভিনেগার ও পানির মিশ্রনে (পানিতে ১০ % আয়তন অনুযায়ী) ১৫ মিনিট মাছ ভিজিয়ে রাখলে শতকরা প্রায় ১০০ ভাগ ফর্মালিনই দূর হয়।

► কিভাবে ফল ও সবজি থেকে ফর্মালিনের দূর করবেন ?


▀ খাওয়ার আগে ১০ মিনিট গরম লবণ পানিতে ফল ও সবজি ভিজিয়ে রাখতে হবে।

 

Sourece: মোস্তফা ১২

http://www.somewhereinblog.net 

 

Monday, May 31, 2010

ডিএমপি-প্রথম আলোর উদ্যোগ: সচেতনতায় জীবনের নিরাপত্তা

ডিএমপি-প্রথম আলোর উদ্যোগ:

সচেতনতায় জীবনের নিরাপত্তা

 

জীবন একটাই, মৃত্যুতে শেষ। একজন চালকের অসতর্কতায় প্রাণ যেতে পারে অনেকের। পথচারী তার অসচেতনতায় হারাতে পারে জীবন। তাই নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজেকেই সচেষ্ট হতে হবে। ট্রাফিক আইন মেনে যানবাহন চালানো ও রাস্তা পারাপার এবং পথচারীদের যথাসম্ভব ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার—এগুলো জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারে।
এটা কারও বক্তৃতা নয়। গতকাল রোববার বাংলামোটর এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ ও প্রথম আলোর বন্ধুসভার সদস্যরা এভাবেই পথচারী ও যানবাহনের চালকদের বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। উদ্দেশ্য, ট্রাফিক আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও পথচারীদের সচেতন করা। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের অংশ হতে এসেছিলেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন ও ইমন, সংগীতশিল্পী মেহরীন। উপস্থিত ছিলেন পুলিশ কমিশনার এ কে এম শহীদুল হক ও প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান। তাঁরা প্রত্যেকেই ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার না হয়ে পথচারীদের ফুটওভারব্রিজ ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করেন। ফুটওভারব্রিজ ব্যবহারকারী পথচারীদের প্রথম আলোর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও স্মারক উপহার হিসেবে একটি চাবির ছড়া দেওয়া হয়।
বেলা ১১টা থেকে দুপুর সোয়া ১২টা পর্যন্ত চলে এই কার্যক্রম। প্রথম আলো ও ঢাকা মহানগর পুলিশ যৌথভাবে এই প্রচারণার আয়োজন করে। গত বছরের ৪ নভেম্বর প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন ও ফুটওভারব্রিজ ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে একই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
সচেতনতামূলক কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ইস্কাটনের নুরুজ্জামান বলেন, ‘এখন থেকে আমি ফুটওভারব্রিজ ও জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করব।’ তবে তিনি বলেন, পুলিশকেও একটু কঠোর হতে হবে। কেননা প্রধানমন্ত্রী যাওয়ার সময় কাউকে রাস্তা দিয়ে পার হতে দেওয়া হয় না। সে সময় সবকিছু সুশৃঙ্খল থাকে। এটা সব সময় করতে হবে।
আইনজীবী জান্নাতুল আকতার বলেন, তিনি সব সময়ই ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার করেন। তবে নিরিবিলি সময় একটু নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। এটা কর্তৃপক্ষকে দেখতে হবে। শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি অন্যকেও এই বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করবেন।
ব্যতিক্রমী এই প্রচারণার শুরুতে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার এ কে এম শহীদুল হক বলেন, মারধর করে কাউকে ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার করানো সম্ভব নয়। নিজের স্বার্থে প্রত্যেককে আইন মেনে চলা উচিত। পুলিশ চালকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। পথচারীদেরও সচেতন করার কাজ অব্যাহত থাকবে।
‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘জীবনটা আমার, আমাকেই সচেতন হতে হবে। অনেক ফুটওভারব্রিজে সমস্যা আছে, এটা ঠিক। তবে এর জন্য ফুটওভারব্রিজ এড়িয়ে চলা খুবই বিপজ্জনক।’
প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, ‘গত বছর প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে একই ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আমাদের এই জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও চলবে।’
শিল্পী মেহরীন বলেন, ফুটওভারব্রিজগুলো আকর্ষণীয় ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হলে মানুষ এগুলো ব্যবহার করতে আগ্রহ পাবে। একই সঙ্গে ফুটওভারব্রিজ পার হয়ে ফুটপাত ধরে নিরবচ্ছিন্ন হাঁটারও ব্যবস্থা থাকতে হবে, নয়তো মানুষ আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।
মডেল-অভিনেতা ইমন বলেন, সবাই জানেন, সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। তার পরও তাড়াহুড়ো করে অনেকেই ব্যস্ত রাস্তা দিয়ে হাঁটেন। এই উদ্যোগের ফলে কিছুটা হলেও পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা করছেন।
সচেতনতামূলক এই কার্যক্রমে বন্ধুসভার সদস্যরা বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্লাকার্ড বহন করেন। পুলিশও হ্যান্ডমাইকে সচেতনতামূলক বিভিন্ন স্লোগান প্রচার করে। এতে বাংলাদেশ স্কাউটসের সদস্যরাও যুক্ত ছিল।
পথচারীদের রাস্তা পারাপারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে রাস্তার পাশেই ‘অদৃশ্য নাট্যায়ন’-এর মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার চালায় ‘বটতলা’। তাদের উদ্যোগ প্রশংসা পায় পথচারীদের।

Source: http://www.prothom-alo.com